শিলংয়ে গিয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা! গায়ে কাঁটা দেওয়া ভৌতিক ঘটনার অংশ হলেন ইমন! কাঠ দিয়ে ক্রস করা কটেজে ঢুকতেই কি ঘটল গায়িকার সঙ্গে?

গানই ইমন চক্রবর্তীর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে মাটির গান সব জেনারেই তাঁর কণ্ঠের যাদু ভর করে থাকে। তবে গানের ফাঁকে জীবনে এমন এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার গল্প রয়েছে যা তিনি বহুদিন গোপন রেখেছিলেন। সম্প্রতি ইউন্ডোজ প্রডাকশন হাউসের সোশ্যাল পেজে ইমন সেই অদ্ভুত স্মৃতিচারণ করলে অনুরাগীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহলের ঢেউ।
ইমন জানান তাঁর ছাত্রজীবনের ঘটনা। তখন তিনি রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটির ছাত্রী এবং ইউনিফেস্ট প্রতিযোগিতার জন্য গিয়েছিলেন শিলংয়ে। তাঁরা যে জায়গায় থাকতেন সেখান থেকে প্রতিদিন গাড়িতে করে প্রতিযোগিতার স্থানে যেতে হত। দুপুরের আলোও সেখানে অদ্ভুতভাবে ম্লান হয়ে যেত আর চারদিকে তৈরি হত এক রহস্যময় নিস্তব্ধতা। এই যাতায়াতের পথেই প্রতিদিন তাঁদের চোখে পড়ত একটি কটেজ যার দরজায় কাঠ দিয়ে বড় করে ক্রস এঁকে রাখা ছিল এবং সেটিই ইমনের মনে জন্ম দেয় প্রশ্নের বীজ।
প্রতিদিনই গাড়িতে সঙ্গে থাকা ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসরকে তাঁরা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন কেন ওই বাড়িটিকে এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও একদিন ছাত্রছাত্রীদের জোরাজুরিতে তিনি গাড়ি থামান। চারদিক তখন প্রায় অন্ধকার এবং তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় এমন এক ঘটনার কথা যা শুনে ইমনসহ বাকিরা নিঃশব্দ হয়ে পড়েছিলেন। জানা যায় প্রফেসর নিজে থাকতেন কটেজের নিচতলায় আর উপরে থাকতেন আরেক প্রফেসর তাঁর পরিবারসহ।
ইমন সেই ঘটনার ভয়াবহ অংশটুকু তুলে ধরে বলেন ওপরতলার সেই পরিবারে ছিল এক ছোট্ট শিশু। প্রতিদিন তার মা রান্নাঘরে দুধ গরম করতে গেলে শিশু কেঁদে উঠত আর তাকে শান্ত করতে মা বলতেন বাবু কেঁদো না জুজু আসবে। কয়েকদিন ধরে একই ঘটনার পর একদিন রান্নাঘর জুড়ে প্রতিধ্বনির মতো শোনা যায় জুজু আসবে। এতে ভয় পেয়ে পরিবারটি নিচে নেমে আসে এবং দু পরিবার স্থান বদল করে। কিন্তু পরদিন আবার যখন মা একই কথা বলেন তখন তিনি স্পষ্ট শুনতে পান জুজু এসে গেছে। অস্থির হয়ে তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন শিশু আর বেঁচে নেই।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা একটা খুব খারাপ রাজনীতির শিকার, ২৯ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে আছি প্রাপ্য সম্মানটুকু পাওয়ার কথা, এতো খারাপ অবস্থা কোনদিনও হয়নি!’ দীর্ঘ ৮ মাস হাতে নেই কাজ, সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক অভিনেত্রী তুলিকা বসু!
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো ইউনিভার্সিটি স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ওই কটেজ। ইমন বলেন ভূতের গল্প শুনতে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের কাছে এই অভিজ্ঞতা তিনি বহুবারই বলেছেন। আর এবার ইউন্ডোজের নতুন ছবি ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেলের প্রোমোশনের হাত ধরেই তিনি ফিরলেন সেই স্মৃতিতে যা এখনও তাঁর মনে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।

