‘চোখের সামনে সব অন্ধকার…র’ক্ত ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে!’ হঠাৎ করে স্ট্রো’ক! বড় বিপদের মুখে সাগরিকা রায়! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?

ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সাগরিকা রায়কে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘শোলক সারি’ ধারাবাহিকে। তার পর থেকে তিনি ছিলেন কাজের বাইরে। নতুন বছর শুরু হওয়ার পর থেকেই বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন অভিনেত্রী। তবে হঠাৎ করে চোখে এমন গুরুতর সমস্যা হবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। সামান্য অস্বস্তি দিয়ে শুরু হলেও পরে বিষয়টি বড় আকার নেয়।
অভিনেত্রীর কথায়, প্রথমে তিনি বুঝতেই পারেননি সমস্যাটা কতটা গুরুতর। চোখে ঝাপসা দেখছিলেন, তাই ভেবেছিলেন হয়তো পাওয়ার বদলেছে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করাতেই ধরা পড়ে চোখে স্ট্রোক হয়েছে। এর ফলে চোখের ভেতরে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং জল জমে যায়। যদিও পরিস্থিতি খুব গুরুতর হয়নি, তবে সামান্য এদিক ওদিক হলেই দৃষ্টিশক্তির বড় ক্ষতি হতে পারত।
এই খবর জানার পর স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেয়ে যান সাগরিকা। চিকিৎসকেরা চোখে একটি বিশেষ ইনজেকশন নেওয়ার পরামর্শ দেন, যা বেশ ব্যয়বহুল। প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হন যে এই চিকিৎসাই একমাত্র উপায়। আরও দুশ্চিন্তার কারণ ছিল, প্রায় এক মাস আগে স্ট্রোক হলেও তা তিনি অনেক পরে জানতে পারেন।
অবশেষে ৬ মার্চ অভিনেত্রীর চোখে সেই ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর এখন কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে তাঁকে। প্রায় তিন সপ্তাহ বিশ্রাম ও সাবধানতার মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। এই সময়টা মানসিকভাবে কঠিন হলেও ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে আগের থেকে অনেকটাই ভালো আছেন সাগরিকা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি চাইলে আবার কাজ শুরু করতে পারবেন। ‘শোলক সারি’র পর নতুন কোনও প্রজেক্টে দেখা যায়নি তাঁকে, তবে এবার নতুন করে কাজে ফেরার জন্য প্রস্তুত অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ ‘বিশ্বাস হচ্ছে না ও আর নেই, আমার জীবনে ও…’ প্রিয়জনকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন মিশমি! স্মৃতিতে এখনও বেঁচে তার প্রিয় সঙ্গী!
এক সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিনেত্রী জানান, “শারীরিক ভাবে আমি সুস্থ। অথচ চোখে স্ট্রোক হয়ে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। চোখে জল জমে গিয়েছে। সেটা অবশ্য ‘বর্ডারলাইন’। একটু এ দিক ও দিক হলে দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব পড়তে পারত। আমরা যে অনিশ্চিত পেশায় রয়েছি, সেখানে এটা কল্পনার বাইরে ছিল। তার পর আরও অনেক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। জানতে পারি, এই ইঞ্জেকশন ছাড়া কোনও উপায় নেই। আর ভয় পেয়েছিলাম কারণ, প্রায় এক মাস আগে এই স্ট্রোক হয়েছে। অনেক পরে জানতে পারি। তাই খুব ভয় পেয়েছিলাম। ভয়ানক সময়ের মধ্যে দিয়ে কেটেছে।”

