‘ওদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখলেই হিংসে হয়…’, কার সঙ্গে শ্বেতাকে ঘনিষ্ঠ হতে দেখেছেন রুবেল? কেন হিংসে হয় তার? মুখ খুললেন অভিনেতা!

২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন রুবেল দাস ও শ্বেতা ভট্টাচার্য। দেখতেই দেখতে দম্পতির জীবনের প্রথম বিবাহবার্ষিকী আসতে চলেছে। টলিগঞ্জের স্টুডিয়োপাড়ার কাছেই নতুন ফ্ল্যাটে কাজের দিনে দু’জনে একসঙ্গে থাকেন, আর ছুটির দিনে কখনও দমদমে শ্বেতার বাড়ি, কখনও বা বারাসতে রুবেলের বাড়ি—এভাবেই জমিয়ে চলছে সংসার। ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও সম্পর্ককে সময় দেওয়া এবং একসঙ্গে থাকা—এই দু’টোতেই ভরসা খুঁজে পান তারা।
অভিনয়ের জগতে কাজ মানেই কখনও কখনও ইনটিমেট সিন। আর এমন দৃশ্য যে সঙ্গীর মনে খানিকটা হলেও দাগ কাটে, তা অকপটেই স্বীকার করলেন রুবেল। তাঁর কথায়, শ্বেতাকে অন্য অভিনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখলে মনে অল্প হলেও হিংসে হয়, তবে তিনি মুহূর্তের মধ্যেই নিজেকে সামলে নিতে পারেন। শ্বেতা বরং নিজের অনুভূতিগুলো আরও খোলামেলা বলেন—কোনো দৃশ্য দেখলে বা করতে হলে সোজাসুজি জানান সঙ্গীকে। রুবেলের মতে, সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে পজেসিভনেস থাকবেই, তা লুকিয়ে ‘কুল’ ভাব দেখানোর কোনো মানে নেই।

শ্বেতাকে নিয়ে একসময় পোশাক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। স্লিভলেস বা ছোট পোশাক পরা নিয়ে রুবেলের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা গুঞ্জন। এমনকি এক অভিনেত্রী অভিযোগ তুলেছিলেন, শ্বেতা নাকি ‘কালাজাদু’ করেন! সেই কঠিন সময়েও স্ত্রীর পাশে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রুবেল। নানা সমালোচনা, ভুল বোঝাবুঝি—সবই সামলে দু’জনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে, এমনটাই মত কাছের মানুষের।
তাদের গল্পের শুরু বহু বছর আগে। খুব অল্প বয়স থেকে নাচ শিখতেন একসঙ্গে, ছিল বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এরপর নানা কারণে দু’জনের পথ আলাদা হয়—রুবেল চলে যান মুম্বই, শ্বেতা শুরু করেন সিরিয়াল জগতে নিজের যাত্রা। পরে মুম্বই ফিরে এসে রুবেলও সিরিয়ালে অভিনয় শুরু করেন। পুরনো বন্ধুরা আবার মুখোমুখি হন ‘যমুনা ঢাকি’–র সেটে।
আরও পড়ুনঃ মা-কে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন বেণী! অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তায় কান্নায় ভিজল সোশ্যাল মিডিয়া!
তখন শ্বেতা ছিলেন নয় বছরের সম্পর্কে, আর রুবেলও সদ্য ব্রেকআপ সামলাচ্ছেন। সেই সময়েই জীবনের কঠিন মুহূর্তে একে–অপরকে আগলে দিয়েছিলেন তারা। বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেওয়া সেই ভরসাই ধীরে ধীরে পরিণতি পায় প্রেমে। আজ, এক বছরের দাম্পত্য জীবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রুবেল–শ্বেতা প্রমাণ করেছেন—ভালোবাসা মানেই পাশে থাকা, ঝড় হলে হাতটা আরও শক্ত করে ধরে ফেলা।

