‘ওকে আমি জন্মাতে দেখেছি, কোলে পিঠে করে মানুষ…’ ‘কোয়েলকে অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং আমার…’ ছোট থেকেই খুব আদরের টলি কুইন কোয়েল মল্লিক! বিনোদন থেকে রাজনীতি, অভিনেত্রীকে নিয়ে কি বললেন রিনা চৌধুরী?

টলিউডের (Tollywood) বাণিজ্যিক সিনেমার ইতিহাসের কথা উঠলেই দুটি নাম বারবার একসঙ্গে ফিরে আসে পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী (Anjan Chaudhury) এবং প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক (Ranjit Mallick)। তাঁদের হাত ধরে একের পর এক বক্স অফিস সফল ছবি দেখেছে বাঙালি দর্শক। কিন্তু রুপোলি পর্দার বাইরেও তাঁদের মধ্যে ছিল এক গভীর ও নিবিড় পারিবারিক বন্ধুত্ব। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই পুরনো দিনের অমূল্য স্মৃতি উসকে দিলেন অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা তথা অভিনেত্রী রিনা চৌধুরী।
সাক্ষাৎকারে রিনা চৌধুরী জানান, তাঁর বাবা অঞ্জন চৌধুরী এবং রঞ্জিত মল্লিকের সম্পর্ক কেবল সহকর্মী বা পেশাগত পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আত্মার বন্ধু। দুই পরিবারের যাতায়াত এবং আন্তরিকতা এতটাই বেশি ছিল যে, কাজের বাইরেও তাঁদের অধিকাংশ সময় কাটত একসঙ্গে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁদের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টান ছিল দেখার মতো।
এই গভীর বন্ধুত্বের সুবাদেই অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে একদম ছোটবেলা থেকে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছেন রিনা চৌধুরী। কোয়েলের জন্ম থেকে শুরু করে তাঁর শৈশবের প্রতিটি ধাপ খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। রিনা চৌধুরীর কথায়, কোয়েলকে তিনি নিজের একদম ছোট বোন এবং কন্যার মতোই স্নেহ করেন। কোয়েলকে কখনোই তাঁর অন্য কারও ঘরের সন্তান বলে মনে হয়নি, বরং তিনি ছিলেন অঞ্জন চৌধুরী পরিবারেরই অত্যন্ত আদরের এক সদস্য।
কোয়েল মল্লিকের শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন রিনা চৌধুরী। তিনি জানান, রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা হওয়ায় কোয়েলকে আলাদা কোনো নজরে দেখার সুযোগই ছিল না; ঘরের ছোট্ট সদস্য হিসেবেই তিনি পেয়েছেন অপরিসীম স্নেহ ও আদর। দুই পরিবারের এই অকৃত্রিম সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, তৎকালীন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে পারিবারিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার ভিত্তি কতটা মজবুত ছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘তোমার না থাকাটা আমার কাছে একটা দুঃস্বপ্ন…’ ‘এক বছর কেটে গেল, আজও সব অবাস্তব মনে হয়…’ ‘ছোট মেয়ে হয়ে থাকার অধিকারটাও হারিয়ে ফেললাম!’ পিতৃ বিয়োগের এক বছর! বাবার কথা মনে পড়তেই চোখে জল সম্পূর্ণা লাহিড়ীর!
পরিশেষে বলা যায়, অঞ্জন চৌধুরী ও রঞ্জিত মল্লিকের সেই অটুট বন্ধুত্বের উত্তরাধিকার আজও দুই পরিবারের রক্তের সম্পর্কের মতো টিকে রয়েছে। আজকের বাণিজ্যিক সিনেমার মোড়ক বদলালেও, টলিউডের এই পুরনো পারিবারিক বন্ধন এবং স্নেহের গল্পগুলো আজও অনুরাগীদের হৃদয়ে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে।

