‘বাচ্চাটার গলায় পা দিয়ে…’ ‘অপরাধের চেয়েও বড় হল অপরাধীর পেছনে…!’ ‘বিচার পাওয়ার আগের আর পরের সমাজটা একই থেকে যায়!’ ১১ বছরের নাবালিকার বস্তাবন্দী দে’হ! সমাজের খোলস টেনে ছিঁড়ে কোন ভয়ঙ্কর রূপ দেখালেন ঋদ্ধি সেন?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম প্রতিভাবান ও স্পষ্টবক্তা অভিনেতা ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen) সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বরাবরই নিজের মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের নানা অসঙ্গতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের উদাসীনতা নিয়ে তাঁর ক্ষুরধার বিশ্লেষণ প্রায়শই নজর কাড়ে। সম্প্রতি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং একটি নৃশংস অপরাধের প্রেক্ষিতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত জরুরি ও বিবেকদংশনকারী পোস্ট শেয়ার করেছেন, যা আমাদের তথাকথিত উন্নত সমাজের খোলসটাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনে।
আজকের দিনে বদল শব্দটা অভিধানের পাতা, চটকদার বিজ্ঞাপন কিংবা ফেসবুকের দেওয়ালে দেখতে যতই ভালো লাগুক না কেন, বাস্তব ইতিহাস আর বর্তমান ভারতের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে তাকালে আসল সত্যটা স্পষ্ট হয়ে যায়। আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বদল আসলে স্রেফ একটা সুকৌশলে বিক্রি করা বিজ্ঞাপনী চমক। আসল খেলাটা হলো আপনি কোন রাজনৈতিক ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছেন। নিজের পছন্দের ব্র্যান্ড যখন দুর্নীতি, খুন বা ধর্ষণের মতো অপরাধকে স্পনসর করে, তখন সেটাকে একদল মানুষ অনায়াসে এড়িয়ে যায় বা স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়। অথচ, অপছন্দের ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে ওঠে অপরাধের একমাত্র নিদর্শন। আমাদের স্মৃতি, নৈতিকতা আর বিচারবোধ আজ সম্পূর্ণ সুবিধাবাদী হয়ে উঠেছে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখার আগে অপরাধীর পেছনের ব্র্যান্ড খোঁজাটাই এখনকার নিয়ম।
এই অন্ধ রাজনীতির মাঝেই ঘটে যায় এক ১১ বছরের বালিকার গণধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে গলায় পা দিয়ে খুন করার মতো পৈশাচিক ঘটনা। এই ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত হলেও, তা রুূঢ় বাস্তব। বস্তাবন্দী সেই ছোট্ট মৃতদেহ উদ্ধার এবং তার পরেই অপরাধকে আড়াল করতে রাজনৈতিক ক্ষমতার নগ্ন আষ্ফালন জনমানসে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। অথচ, এক শ্রেণীর নাগরিক সমাজ এই অকল্পনীয় যন্ত্রণা আর জনরোষের ভাষা বুঝতে পারে না তারা মগ্ন থাকে কেবল হকারমুক্ত রাস্তা আর চকচকে উন্নয়নের ফাঁপা স্বপ্নবিলাসে।
আইনি প্রক্রিয়া মেনে হয়তো একদিন বিচার হবে, অপরাধীদের গ্রেফতার বা শাস্তিও হবে। কিন্তু যে সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষমতা প্রদর্শনের পথ আইনি নয়, বরং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করে, সেখানে বিচার শব্দটাই প্রহসন। আরও দুর্ভাগ্যজনক হলো, এক শ্রেণীর সংবাদমাধ্যম টাকার বিনিময়ে প্রাইম টাইম স্লটে সেই মৃত শিশুর দেহকে কেন্দ্র করে টিআরপির নোংরা খেলায় মেতে ওঠে, যা শিশুটিকে যেন বারবার খুন করার শামিল। এমন এক বিকৃত সমাজে আমাদের তথাকথিত অবাক হওয়া করার কোনো মূল্য নেই; এই মেকি অনুভূতিগুলো মৃত শিশুটির শবদেহের পাশেই বিসর্জন দিয়ে আসা উচিত। কারণ আমরা ভালো করেই জানি, বিচারের আগেও সমাজের যে চেহারা ছিল, পরেও তা একই থেকে যাবে।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! ৯২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে কিংবদন্তি তারকা! শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া!
পরিশেষে, যারা এখনো বিশ্বাস করেন যে এই সমাজ বা পৃথিবীতে সত্যিই কোনো সার্বিক ‘উন্নয়ন’ হচ্ছে বা হতে পারে, তারা আসলে একধরণের সাময়িক অন্ধত্বের সুখে বাস করছেন। এই অন্ধত্ব সাময়িক শান্তি দিলেও বাস্তবকে বদলে দেয় না। তাই কোনো চিন্তা নেই, পুরোনো ভয়গুলো নতুন পোশাকে নতুন রাস্তায় ঘুরে বেড়াক, আর আপনি “ভয় আউট ভরসা ইন”-এর চটকদার স্লোগান আউড়ে নিশ্চিন্তে ঘুমে মগ্ন থাকুন।

