‘ওই টাকাটা আমি ছাড়বো কেন?’ ‘এই পর্যায়ে পৌঁছে কাকের মতন বসে কাকা করা উচিত না! ‘তোষামোদ করিনি বলেই ১২ বছর ব্যান!’ ক্ষমতার লোভে প্রতিভার অপমৃ’ত্যু! টলিউডের অতি-রাজনীতিকরণ নিয়ে সরব ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়!

বিনোদন ও সংস্কৃতি জগতে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভিন্ন মতাদর্শের শিল্পীদের কোণঠাসা করে রাখার চেনা ছবিটা এবার সশব্দে সামনে এল। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রাজ্যের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বিশিষ্ট পঞ্চকবির গানের গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় (Riddhi Bandyopadhyay)। তোষামোদের রাজনীতিতে পা না মেলানোর কারণে কীভাবে একজন গুণী শিল্পীকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হতে হয়, সেই অন্ধকার দিকটিই অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি।
গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎকারে সরাসরি জানান, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ ১২টি বছর তার জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র শাসকদলের “হ্যাঁতে হ্যাঁ” না মেলানোর অপরাধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনো অনুষ্ঠানে তাকে ডাকাই হতো না। এমনকি সরকারি স্তরেই ক্ষান্ত না থেকে, তার বেসরকারি বা কর্পোরেট কাজকর্মেও ক্ষমতার থাবা বসানো হয়েছিল। ঋদ্ধির স্পষ্ট কথা, বিগত বছরগুলোতে যোগ্যতার চেয়ে ক্ষমতার দাপট আর তোষামোদ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে তার মতো বহু স্বাধীনচেতা ও সংবেদনশীল মানুষকে বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয়েছিল।
এই বঞ্চনা কেবল ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, গোটা বিনোদন জগতকে এতটাই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল যে অনেক প্রথম সারির ব্যক্তিত্বকেও কাজ হারাতে হয়েছে। অনিক দত্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, চন্দন সেন, শ্রীলেখা মিত্র কিংবা তরুণ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের মতো প্রতিভাবান মানুষদের কাজও নানা সময়ে বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। সংস্কৃতির এই অতি-রাজনীতিকরণের ফলে রাজ্যের শিল্প জগতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধেও বোমা ফাটিয়েছেন ঋদ্ধি। তিনি বলেন, রবীন্দ্র সদন বা শিশির মঞ্চের মতো সরকারি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, কিন্তু সেগুলোকে নিজস্ব আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। ইন্দ্রনীল সেনের পছন্দের বৃত্তে না থাকলে বা তাঁর কথায় না চললে যে কোনো শিল্পীর গলা টিপে বন্ধ করে দেওয়ার এক অলিখিত নিয়ম তৈরি হয়েছিল। ঋদ্ধির মতে, একজন গায়ক হিসেবে ইন্দ্রনীলদার প্রতিভা থাকলেও, ক্ষমতার অতিরিক্ত লোভ আর দুর্নীতি শেষ পর্যন্ত তাঁর শিল্পীসত্তার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অতীতের সত্য জানতে গিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে? রহস্যের মুখোমুখি হতেই পারুল ও রায়ানের ওপর চলল গুলি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সবশেষে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর সংস্কৃতি মহলে এক নতুন ভোরের আশা দেখছেন ঋদ্ধি। নিজে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অনেক হুমকি পেলেও নিজের নীতি থেকে তিনি সরেননি। বর্তমান সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর কোনো পেশাদার বিনোদন জগতের মানুষের হাতে না রেখে শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুরোদস্তুর রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। এর ফলে রাজনীতি এবং বিনোদন জগত দুটি সমান্তরাল লাইনে চলবে, একটির প্রভাবে অন্যটি কলুষিত হবে না এবং বঞ্চিত শিল্পীরা আবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর আলো পাবেন।

