অতীতের সত্য জানতে গিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে? রহস্যের মুখোমুখি হতেই পারুল ও রায়ানের ওপর চলল গুলি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিকের আগামী পর্বের গল্পে আসতে চলেছে এক টানটান উত্তেজনা। অবশেষে দীর্ঘদিনের লুকিয়ে থাকা সব অজানা সত্য একে একে সবার সামনে আসতে শুরু করেছে। নাটকীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিঞ্জিনী আসলে আগে থেকেই নিখুঁত পরিকল্পনা করে সৌমিত্রকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিল। এখানেই শেষ নয়, সৌমিত্র ও পারুলের মায়ের মধ্যকার পবিত্র ও সুন্দর সম্পর্কের মাঝে সে এমন এক বিষাক্ত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেছিল, যার কারণে বাধ্য হয়ে পারুলের মা একদিন ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। এতদিন ধরে জমে থাকা এই রহস্যের জট ধীরে ধীরে খোলায় পুরো গল্পটা এখন দর্শকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অনেকদিন পর পারুল ও রায়ানকে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে একসাথে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটাতে দেখা যায়। কিন্তু তাদের এই আনন্দ ও মানসিক শান্তি খুব বেশি সময় স্থায়ী হলো না। পারুল আর রায়ান আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারছিল যে সৌমিত্রবাবুই হয়তো পারুলের আসল বাবা, এখন শুধু তাদের একটা শক্ত প্রমাণের অপেক্ষা। এই সত্যের খোঁজে সৌমিত্রের অতীত ইতিহাস ঘাঁটতে ঘাঁটতে তারা দুজনে তার এক পুরোনো বন্ধু অলক বাবুর বাসায় গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে পারুল সৌমিত্রের বিয়ে নিয়ে জানতে চাইলে অলক বাবু হেসে বলেন, ওটা তো সৌমিত্রের দ্বিতীয় বিয়ে, তার আগেও একটা বিয়ে হয়েছিল! এই চরম সত্যটি শুনে পারুল পুরোপুরি চমকে ওঠে।
বহু বছরের লুকিয়ে থাকা রহস্যের পর্দা যখন ধীরে ধীরে সরতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই গল্পে ধেয়ে আসে এক নতুন এবং মারাত্মক বিপদ। আগামী পর্বে দেখা যাবে এক রুদ্ধশ্বাস টুইস্ট, যেখানে সংযুক্তা সেন নতুন এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। সে কোনোভাবেই চায় না যে রায়ান ও পারুল মিস্টার রয়ের মুখোমুখি হোক কিংবা তার কাছ থেকে অতীতের কোনো সত্যি ঘটনা জানতে পারুক। পারুল ও রায়ানকে মিস্টার রয়ের কাছে পৌঁছানো থেকে আটকাতে সংযুক্তা নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে চাল চালতে থাকে।
সংযুক্তার সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত রায়ান ও পারুল মিস্টার রয়ের ব্যক্তিগত কেবিনে গিয়ে পৌঁছাতে সফল হয়। সেখানে গিয়ে পারুল আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারে না। সে অত্যন্ত কাঁদো কাঁদো সুরে মিস্টার রয়কে বলে, “কাকু, আমি আজ সবটা জানতে পেরেছি। কিন্তু আপনার কাছ থেকে আমার এখনও আরও অনেক কিছু জানার বাকি আছে, দয়া করে আপনি আমাকে একটু সাহায্য করুন।” পারুল আরও যোগ করে বলে যে সে এখন নিশ্চিতভাবে জানে, মিস্টার রয়ই তার মা গায়ত্রী দেবীর প্রথম স্বামী এবং গায়ত্রী দেবী ছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ জীবন তাকে ‘পারফেক্ট’ বানিয়েছে, এবার ঝিনুককেও নিজের ছাঁচে ঢালতে চলেছে সম্রাট! আতঙ্কে সিঁটিয়ে ঝিনুক! ভালোবাসার আড়ালে এবার কোন নতুন রূপ দেখাবে সাই*কো সম্রাট?
পারুলের এই আবেগঘন কথার মাঝেই গল্পে নেমে আসে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো বিপর্যয়। পারুল যখন তার মায়ের কথা বলছিল, ঠিক তখনই চেয়ারে উল্টো হয়ে বসে থাকা রহস্যময় লোকটি হুট করে রায়ান ও পারুলের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকটির হাত থেকে সোজা দুটো গুলি এসে লাগে রায়ান ও পারুলের বুকে। রক্তাক্ত অবস্থায় রায়ান ও পারুল দুজনেই ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে, আর এভাবেই গল্পটি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়ায়।

