‘এখনকার বাচ্চারা ৩ বছরেই সব জেনে যায়, আর আমি ৯ বছর বয়সেও জানতাম না যে উত্তর কুমার…’ ‘তখন আমি ছোট, কি করেই বা জানবো যে অতবড়…!’ মহানায়কের সঙ্গে শুটিং-এ কিসের সম্মুখীন হয়েছিলেন রত্না ঘোষাল? সেই দিনটির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী!

বাংলা অভিনয় জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ রত্না ঘোষাল (Ratna Ghoshal)। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে আসছেন। বড় পর্দা থেকে শুরু করে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল সব জায়গাতেই তার উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কমেডি হোক বা সিরিয়াস চরিত্র, যেকোনো ভূমিকায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে তার জুড়ি মেলা ভার। অভিনয়ের পাশাপাশি তার স্পষ্টবাদিতা এবং হাসিখুশি স্বভাবের জন্য চলচ্চিত্র মহলে তিনি ভীষণভাবে সমাদৃত।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এসে এই প্রবীণ অভিনেত্রী নিজের শৈশব এবং অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলির এক মজাদার স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে কাজ করার এক দুর্লভ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মজার বিষয় হলো, সেই সময় পর্দায় যার সাথে তিনি ফ্রেম শেয়ার করছিলেন, সেই মানুষটার জনপ্রিয়তা বা তারকাখ্যাতি কতটা, তা বোঝার মতো বয়স বা বুদ্ধি কোনোটাই তখন তার ছিল না।

রত্না ঘোষাল স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, ‘এখানে পিঞ্জর’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথমবার উত্তম কুমারের সাথে অভিনয় করার সুযোগ পান। ছবিটিতে তিনি একটি ছোট মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যা ছিল মূলত অভিনেত্রী রীনা দাসের ছোট বোনের পার্ট। সেই সেটেই প্রথমবার মহানায়কের সংস্পর্শে আসেন তিনি এবং সেখান থেকেই তাদের আলাপ ও কাজের সূত্রপাত ঘটে।

নিজের সরলতার কথা স্বীকার করে অভিনেত্রী জানান, তখন তার বয়স ছিল মাত্র আট বা নয় বছর। তখনকার দিনের বাচ্ছারা ভীষণ সহজ-সরল হতো। রত্না দেবীর কথায়, সেই বয়সে তিনি এতটাই বোকা ছিলেন যে উত্তম কুমার নামের ব্যক্তিত্বটি আসলে কত বড় মাপের একজন সুপারস্টার, সেই ধারণাই তার মাথায় ছিল না। মহানায়কের সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার সময় কোনো রকম ভয় বা বাড়তি উত্তেজনাও তার মনে কাজ করেনি, কারণ তিনি বিষয়টার গুরুত্বই তখন বোঝেননি।

আরও পড়ুনঃ আচমকাই গায়েব নার্স! ওদিকে নিশার ফোন কল আড়ি পেতে শুনল জিৎ বাসু! কোন বড় বিপদে পড়তে চলেছে উজি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পুরনো দিনের সাথে বর্তমান সময়ের তুলনা টেনে অভিনেত্রী বেশ মজার ছলে বলেন যে, তাদের সময়ে আট-নয় বছর বয়সেও বাচ্চাদের মধ্যে কোনো জটিলতা বা অতিরিক্ত পাকা বুদ্ধি থাকত না। কিন্তু আজকের দিনে প্রযুক্তি ও সময়ের হাত ধরে মাত্র তিন বছরের ছোট ছোট শিশুরাই অনেক বেশি চটপটে হয়ে উঠেছে এবং সবকিছু খুব দ্রুত বুঝে ও জেনে যায়। মহানায়কের সাথে কাটানো নিজের সেই সরল শৈশবের দিনগুলির কথা মনে করে আজও বেশ আবেগপ্রবণ এবং আমোদিত হয়ে ওঠেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

Back to top button