‘ভালো আছে, অনেক লড়াই করছে…’ নয় বছর আগে ভয়ংকর দুর্ঘটনায় বদলে গিয়েছে জীবন! জন্মদিনে কেমন আছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাতি রণদীপ?

শুক্রবার রাত থেকেই নিউ আলিপুরের বাড়িতে উৎসবের আবহ। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাতি রণদীপ বসুর জন্মদিন উপলক্ষে জমজমাট আড্ডায় ভরে ওঠে গোটা বাড়ি। বন্ধুদের আনাগোনা, গিটার হাতে গান আর হাসি গল্পে রাত কেটে যায়। শনিবার সকাল হতেই জন্মদিনের প্রস্তুতি শুরু হয়। নিজের হাতে ছেলের জন্য ছোলার ডাল, মাংস আর পায়েস রান্না করেন থিয়েটারকর্মী পৌলমী বসু। সকালেই কেক কাটা সেরে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেন পরিবারের সকলে।
নয় বছর আগে এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা রণদীপের জীবন একেবারে বদলে দেয়। আর পাঁচটা যুবকের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন এখনও সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। তবুও আজ অনেকটাই সুস্থ তিনি। মা পৌলমীর কথায়, রণদীপ এখন নিজে উঠে বসতে পারেন এবং তাঁর মস্তিষ্ক আগের মতোই প্রখর। ভীষণ রসিক আর ইতিবাচক মানসিকতার রণদীপ সারাক্ষণ হাসি মজায় ভরিয়ে রাখেন পরিবারকে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াই যে তাঁকে লড়তেই হবে, সেটা তিনি নিজেও খুব ভালো করে বোঝেন।
জন্মদিনের দিন হুইলচেয়ারে বসেই সব আনন্দ উপভোগ করেন রণদীপ। পরিবার আর বন্ধুদের মাঝেই কাটে তাঁর বিশেষ দিন। এখনও স্বাভাবিকভাবে কথা বলা সম্ভব না হলেও একটি কি বোর্ডে ধীরে ধীরে টাইপ করে নিজের মনের কথা জানান তিনি। পাশে থাকা মানুষজন সেই লেখাই পড়ে বুঝে নেন তাঁর কথা। এইভাবেই নানা রকম মজার গল্প আর স্মৃতিচারণে জমে ওঠে জন্মদিনের আসর।
রণদীপের জীবনে থিয়েটারের উপস্থিতিও থেমে থাকেনি। পৌলমী জানান, ছেলে এখন হুইলচেয়ারে বসেই তাঁর নাটক দেখতে যান। আগামী ১৯ জানুয়ারি তাঁর বাবার জন্মদিনে যে নাটক মঞ্চস্থ হবে, সেটিও দেখতে যাবেন রণদীপ। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। বাবা চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং পরিবারও পাশে রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, রণদীপ নিজেই এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সক্রিয় সহযোগিতা করে চলেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘উত্তম কুমারের থেকে বাবার মতন স্নেহ পেয়েছি… তিনি আমাদের বাবার মতন!’ বাবাকে নিয়ে বলতে গিয়ে চোখে জল দেবিকা মিত্রের!
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে কোনও মায়ের মতো পৌলমীর মনেও দুশ্চিন্তা আসে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, রণদীপ সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে। পরিবারের সমর্থন তো আছেই, সঙ্গে আছে বোন মেখলার অগাধ ভালোবাসা। তাই আশার আলো নিয়েই সামনে তাকিয়ে আছেন তাঁরা। জন্মদিনের এই উদযাপন শুধু উৎসব নয়, বরং লড়াই, ধৈর্য আর ভালোবাসার এক জীবন্ত উদাহরণ।

