‘ইঁটভাটাতে পরিশ্রম করে, খালি পায়ে হেঁটে পায়ের ছাল উঠে গিয়েছিল’- শুরুতে চরম দুর্দশায় কাটিয়েছেন রাজ! বদলে মিলেছে পরিচালকের দুর্ব্যবহার! কি হয়েছিল তার সঙ্গে?

টলিউড (Tollywood) ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে (Film industry) জনপ্রিয় পরিচালকদের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে রাজ চক্রবর্তীর (Raj Chakraborty) নাম। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কমার্শিয়াল ছবিতে পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাজ। তার পরিচালনায় আমরা একাধিক সুপারহিট ছবি দেখেছি। বর্তমানে অন্য ধরনের ছবিও বানাচ্ছেন তিনি। সেই ছবিগুলো ধীরে ধীরে দর্শকের মাঝে ভালোই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বর্তমানে তিনি টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম একজন। কিন্তু এই জায়গায় আসার জন্য অনেক বাধা-বিপত্তি পেরোতে হয়েছে রাজকে। অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে এসেছিলেন তখন সামনে অনেক বাঁধা বিপত্তি এসেছিল। একটা সময় তিনিই রীতিমত মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। এমনও সময় ছিল যখন রাজ চক্রবর্তী জুনিয়ার আর্টিস্টের কাজও করেছেন। সাক্ষাৎকারে বহু জায়গায় বহুবার নিজের স্ট্রাগেলের কথা বলেছেন রাজ।
একটা সময় নাকি মিঠুন চক্রবর্তীর কাছেও কাজ চেয়েছিলেন রাজ। তিনি চিঠি লিখেছিলেন মিঠুনকে, আর্জি জানিয়েছিলেন রাজকে যেন একটা কাজ দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে রাখেন তিনি। তাঁর আর পড়ার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তী সেই চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন কিনা জানা নেই।
তারপর জুনিয়র আর্টিস্ট হয়ে কাজের সুযোগ পান রাজ। অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল সেই সময়। কিন্তু হাল ছাড়েনি রাজ, পিছিয়ে পড়েননি। হয়তো সেই চেষ্টার ফলই পাচ্ছেন এখন। একবার এক টক শোতে এসে নিজের সেই কঠিন দিনগুলির কথা বলেছিলেন রাজ।
আরও পড়ুনঃ খুনের দায়ে পুলিশি হেফাজতে ফুলকি! রুদ্রর ষ’ড়যন্ত্রের জাল কেটে পাল্টা জবাব দিতে নতুন রূপে ফুলকি!
পরিচালক বলেন ”আমি স্বপন সাহার ছবিতে জুনিয়ার আর্টিস্টের কাজ করেছি। আমি রাণের ছবিতে জুনিয়ার আর্টিস্টের কাজ করেছি। আমার মনে আছে একটা ছবি করেছিলাম, নাম ছিল সুন্দরী। সেখানে বু্ম্বাদা ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ছিলেন হিরো-হিরোইন। ফলতাতে শুটিং পড়েছিল। সেখানে ১৫০ জুনিয়ার আর্টিস্ট ছিল। আমি ছিলাম তাঁদের মধ্যে একজন। যাঁর কাজ ছিল প্রতিদিন রাতে যখন শুটিং হতো, সাত দিন ধরে হাতে মশাল নিয়ে শুধু দৌড়ে যাওয়া। একটা ইঁটভাটাতে শুটিং হচ্ছিল। আমার পায়ের তলার ছাল উঠে গিয়েছিল। আমি সহপরিচালককে বারবার অনুরোধ করছি, আমাকে একটা চটি পরতে দিন। উনি কিছুতেই চটি পরতে দিতে রাজি নন। সেই সময় আমার খুব রাগ হয়েছিল। আমার তো পা দেখা যাচ্ছে না। আমায় পাল্টা তিনি বলেছিলেন, ‘ওই নিজেকে কি তুমি হিরো ভাবছো নাকি? সবাই যা করছে, তুমিও তাই করো।’ সবার কষ্ট হচ্ছে, দেখছি, কিন্তু কেউ বলতে পারছে না।”

