“আজ হয়তো সুশান্তের মতন পরিণতি হতে পারতো”, রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাহুলের, কেন এমন বললেন অভিনেতা?

কিছুদিন হলো মুক্তি পেয়েছে রাজ চক্রবর্তীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘আবার প্রলয়’-এর টিজার। সেখানে প্রত্যেকটি জিনিসই প্রশংসিত হয়েছে কেবলমাত্র ধর্মগুরুর ভূমিকায় ঋত্বিক চক্রবর্তীর লুক ছাড়া। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন যে, ‘স্যাক্রেড গেমস ২’-তে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর লুক হুবহু নকল করা হয়েছে এখানে। এই অভিযোগ তুলে পরিচালককে বিশ্রীভাবে কটাক্ষ করেছেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

সেই নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। এবার এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফের ওই বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা। রাজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগও আনলেন তিনি। সেদিনের পোস্ট নিয়ে কোনওরকম রাখঢাক করতে রাজি নন রাহুল। তিনি সরাসরি রাজের নাম করেই বলেন যে, তাঁর পোস্ট রাজকে টার্গেট করেই করা। তিনি বলেন, “হঠাৎ করে কিছুই বলা হয়নি। আমি যা বলেছি ওকে উদ্দেশ্য করেই বলেছি। একটা এত বড় প্রোজেক্ট। এতজন গুণী অভিনেতা। এত হাই বাজেট। কিন্তু একটা চরিত্রের পিছনে ন্যূনতম ভাবনার ইনভেস্টমেন্ট থাকবে না, এটা বড় দৈন্যের কথা।”

এই কথার মাধ্যমে রাহুল যে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর লুকের সঙ্গে ঋত্বিকের লুকের সাযুজ্যের কথা বোঝাতে চেয়েছেন, সেটাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে এর পাশাপাশি ঋত্বিকের মতো অভিনেতার প্রশংসাও শোনা গিয়েছে রাহুলের মুখে। তিনি বলেন, “আমি জানি ঋত্বিক একজন অত্যন্ত বড় এবং গুণী অভিনেতা। ও এই চরিত্রটাকে একটা আলাদা পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

গোটা ওয়েব সিরিজে ও নিজের ছাপ রেখে যাবে। হয়তো চরিত্রটা এক নাও হতে পারে। আলাদাই না হয় হল। কিন্তু লুকটা কেন এক হবে?” তাই সেই নিয়েই রাহুল সরাসরি কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, “যে একদা কপি করিত, সে আজও কপি করে। শুধু তামিল ছেড়ে স্যাক্রেড গেমসের পঙ্কজ ত্রিপাঠীর লুক কপি করে। এটাই যা…।”

যে রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরে তাঁর টলিউডে পা রাখা, কেন সেই তাঁর বিরুদ্ধেই এমন কটাক্ষ করলেন রাহুল? এ প্রশ্নের জবাবে অভিনেতার সাফ জবাব, “একদমই ঠিক যে রাজের সঙ্গে আমি কাজ শুরু করেছিলাম। যেটা মুক্তি পেয়েছিল ২০০৮ সালের ১৫ অগাস্ট। কিন্তু এরপর রাজ্যের এক বহুল প্রচলিত সংবাদপত্রে আমায় নিয়ে খুবই খারাপ কথা বলে রাজ। ও বলে রাহুলের মতো খারাপ মানুষ হয় না। ওকে যে সুযোগ দিয়েছি তার জন্য আমি লজ্জিত। ওর মতো বাজে ছেলে আমি দেখিনি। আমার বাবা তখনও বেঁচে। আমার একটা পরিবার রয়েছে। বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজন রয়েছে। সকলেই সেদিন ওই সাক্ষাৎকারটা পড়েছিল।”

তারপর রাজের বিরুদ্ধে চরম অভিযোগ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “এমন একটা সাক্ষাৎকার ওই ছেলেটার উপর কেমন মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, যে আবার তাঁর হাত ধরেই পথ চলা শুরু করেছে টলিউডে, সেটা একবারও ভাবেনি। ওইসময় যদি আমার পাশে প্রিয়াঙ্কা, মা, বাবা না থাকত, তাহলে টলিউডে অনেক আগেই একটা সুশান্ত সিং রাজপুত হয়ে যেতে পারত।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমার সোশ্যাল মিডিয়া আছে। সবাই আমার কথাও শোনে। তাই বলেছি। অন্য কোনও পরিচালক হলে হয়তো আমি এসব কথা মনেও রাখতাম না, আর বলতামও না। রাজ বলেই বলছি। কারণ, একটা কুঠার যখন কোনও গাছ কাটে, পরে সেই কুঠার ভুলে যায়, কিন্তু গাছ মনে রাখে। আমি সেই গাছটা।”

Back to top button