‘ওর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছে কখনো?’ ‘জানতে চেয়েছে মাসি কেমন আছে? বাচ্চাটা আর সদ্য স্বামীহারা মেয়েটা কেমন আছে?’ ‘রাহুলকে ব্যবহার? ও তো নিজেই…’ ‘ছবিওয়ালা’র বিতর্কে বি’স্ফোরক দেবলীনা দত্ত!

টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক প্রয়াণ নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা সিনেমা জগৎকে। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে তাঁর এই অকালমৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারেননি তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। অভিনেতা হিসেবে তাঁর চলে যাওয়া টলিউডে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। মৃত্যুর আগে তিনি পরিচালক বাপ্পার ‘ছবিওয়ালা’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে কাজ শেষ করেছিলেন, যা এখন তাঁর জীবনের শেষ সৃষ্টি হিসেবে মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে।
আগামী ২৪শে জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবলীনা দত্ত অভিনীত এই ছবি। প্রয়াত অভিনেতার শেষ স্মৃতি জড়ানো এই চলচ্চিত্রের প্রচারে কোনো খামতি রাখছেন না নির্মাতারা। তবে কেবল সাধারণ প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়, টিম ‘ছবিওয়ালা’র পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ। ছবির মুক্তিকে সামনে রেখে পথনাটিকা, বিশেষ গান এবং রক্তদান শিবিরের মতো নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এমনকি রাহুলের নিজের স্কুল ও পাড়াতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চলছে, যার মাধ্যমে অভিনেতার আজীবনের সমাজমনস্ক ভাবনাকে সম্মান জানানো হচ্ছে।
তবে এই প্রচারকে কেন্দ্র করেই টলিপাড়ার একাংশে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে, ছবির প্রচারের স্বার্থে প্রয়াত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগকে ‘ব্যবহার’ করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই নিন্দে ও কুৎসার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা এই ধরণের সস্তা অভিযোগ করছেন, তারা কি একটা মুহূর্তের জন্যও রাহুলের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন? তাঁর মা, দাদাভাই কিংবা প্রিয়াঙ্কা ও সন্তান সহজ কেমন আছে সেই খবর রাখার সৌজন্য কি সমালোচকদের আছে?
বিতর্ক দূরে সরিয়ে দেবলীনা মনে করিয়ে দেন, ‘ছবিওয়ালা’ পুরোপুরি রাহুলের ছবি। এই চলচ্চিত্রে তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ‘বাবা’ এবং ‘ছেলে’ এই দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমার নামভূমিকায় থাকা শিল্পীর চলে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও, তাঁর করা শেষ শ্রেষ্ঠ কাজটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরা সহকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব। আর সেই কারণেই ছবির প্রচারের প্রতিটি স্তরে রাহুলের উপস্থিতি এবং তাঁর কাজের প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসছে, যা কোনো বাণিজ্যিক কৌশল নয়, বরং একজন প্রকৃত শিল্পীর প্রতি তাঁর টিমের নিখাদ শ্রদ্ধা।
আরও পড়ুনঃ মা-বাবাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারুলের বিরাট পদক্ষেপ! এর মাঝেই বসু বাড়ির দরজায় পুলিশের আগমন! তবে কি ধরা পড়ে যাবে রায়ান-পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
ভিডিওর শেষে অত্যন্ত দৃঢ় গলায় দেবলীনা জানান যে, নিন্দুকেরা নিন্দে করলেও তাঁরা রাহুলের নাম নেওয়া বন্ধ করবেন না। দু-একজন মানুষের মূর্খের মতো মন্তব্যের ভয়ে একজন গুণী শিল্পীর শেষ কাজকে অবহেলা করা যায় না। বরং রাহুলের নাম তাঁরা আরও দ্বিগুণ, একশো গুণ বেশি করে উচ্চারণ করবেন। দেবলীনার কথায়, “বাবিনের কাজের মাধ্যমেই ও আমাদের মধ্যে আজীবন বেঁচে থাকবে।” ভবিষ্যতে রাহুলের লেখা গল্প বা নাটক নিয়ে আরও কাজ করার এবং তাঁর স্মৃতিকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে শেষ হয় অভিনেত্রীর বক্তব্য।

