‘সেলিব্রিটি মানে এখনও বুঝিনি!’ ‘সাউথ বা বোম্বেতেই কাজ করব, এখানে…’ প্রবাল জনপ্রিয়তা পেয়েও কেন বাংলায় ফিরতে চাননি অভিনেত্রী? গ্ল্যামার দুনিয়ার অন্য রূপ নিয়ে বি’স্ফোরক প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী!

টলিউডের (Tollywood) একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী (Priyanka Trivedi) দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও পা রাখলেন নিজের শহর কলকাতায়। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর রূপালী পর্দার সোনালী দিনগুলো এবং বর্তমান কর্মজীবন নিয়ে নানা অজানা কথা ভাগ করে নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় অভিনেত্রীকে এভাবে পেয়ে বাংলার দর্শক মহলেও বেশ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আড্ডার মেজাজে তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের এমন কিছু বিশেষ অধ্যায়, যা আজ এত বছর পরেও সমানভাবে জীবন্ত এবং দর্শকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই প্রিয়াঙ্কা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেন তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা মাইলস্টোন ‘সাথী’ সিনেমার প্রথম দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা। অভিনেতা জিতের সাথে তাঁর প্রথম অন-স্ক্রিন শটের কথা মনে করে আজও তাঁর শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বা ‘গুজবাম্পস’ অনুভুত হয়। তিনি জানান, প্রথম শটটি ছিল একটি রোমান্টিক দৃশ্য যেখানে জিৎ তাঁর কপালে থাকা একটি বাঁকা টিপ ঠিক করে দেওয়ার জন্য সেটি আলতো করে সরিয়ে দেন। এই দৃশ্যটি ক্যামেরার ফ্রেমে এতটাই স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছিল যে পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীসহ পুরো শুটিং ইউনিট আনন্দে মেতে উঠেছিল। প্রিয়াঙ্কার মতে, জিতের সাথে এই স্ক্রিন কেমিস্ট্রিটা ছিল একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত ও ম্যাজিক্যাল, যা সব শিল্পীর ক্ষেত্রে সহজে ঘটে না।
নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা জানান যে তিনি কখনই কোনো সীমানার মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাননি। বাংলা সিনেমা দিয়ে তাঁর অভিনয় সফর শুরু হলেও খুব দ্রুতই তিনি মুম্বাইতে নিজের বেস তৈরি করেন এবং সেখান থেকে তামিল ও অন্যান্য দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কাজ করার বড় বড় সুযোগ পান। টলিউডের সব নামী তারকাদের সাথেই তিনি কাজ করেছেন। ফেরদৌস কিংবা জিতের মতো অভিনেতাদের সাথে যেমন তাঁর হিট জুটি ছিল, তেমনই টলিউডের অভিভাবক বুম্বাদা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সাথেও তিনি ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘অপরাধী’ এবং ‘গোলমাল’-এর মতো একের পর এক সুপারহিট ও আইকনিক ছবি উপহার দিয়েছেন।
বর্তমানে অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রিয়াঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং কন্টেন্ট-ভিত্তিক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতেই বেশি ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর জন্য সবসময় একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা একঘেয়ে। তাই বিয়ের পরেও তিনি নিজেকে আটকে না রেখে হরর, অ্যাকশন ও পুলিশ অফিসারের মতো বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর একটি কন্নড় ছবি, যেখানে তিনি অভিনয় করছেন একজন নারী গোয়েন্দার ভূমিকায়। এই চরিত্রটিকে তিনি ফিমেল ব্যোমকেশএকটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে আলঝেইমার্স রোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বিশেষ চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘একাধিক প্রেমিক ছিল ওর, প্রয়োজন অনুযায়ী ধরতো আর প্রয়োজন ফুরোলেই ছাড়তো…’ আমাদের স্ক্রিপ্ট রাইটারের সঙ্গেও ওর…’ ‘সারেগামাপা’ থেকেই ছিল একাধিক সমস্যা! অদিতি মুন্সিকে নিয়ে একের পর এক বি’স্ফোরক দাবি সৌম্য চক্রবর্তীর!
এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী গ্ল্যামার দুনিয়ার চটক বা ‘সেলিব্রিটি’ শব্দটিতে খুব একটা বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, সেলিব্রিটি তকমাটির চেয়েও বড় বিষয় হলো একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠা এবং দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পাওয়া। তিনি সহজ ভাষায় বলেন যে প্রত্যেক মানুষই তাঁর নিজের নিজের জায়গায় একজন সেলিব্রিটি। জীবনের রজতজয়ন্তী বর্ষে দাঁড়িয়ে এবং ইতিমধ্যেই নিজের অভিনয় জীবনের ৫০তম ছবির মাইলস্টোন পার করে প্রিয়াঙ্কা এখন একজন সফল মা হিসেবে সমাজের কাছে পজিটিভ উদাহরণ তৈরি করতে চান। বাংলা সিনেমা ও কলকাতার দর্শকদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আজও চিরন্তন, এবং আগামী দিনে ভালো স্ক্রিপ্ট ও সুযোগ পেলে জিতের সাথে আবারও বাংলার পর্দায় ফেরার একরাশ জল্পনা উসকে দিয়ে শেষ হলো তাঁর এই সুন্দর সাক্ষাৎকার।

