‘একটু রাজনীতি আবার একটু অভিনয়! দু’ নৌকোয় পা দিয়ে চলা আমার হবে না…’ রাজনীতি এবং অভিনয়, একসঙ্গে সম্ভব নয়! দু’নৌকায় পা রাখলে দুটো নৌকাই ডুবতে বাধ্য! স্পষ্ট বার্তা অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের!

বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষিতে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী এমন একজন হওয়া উচিত যিনি বাংলার মানুষ ও সংস্কৃতিকে ভালোভাবে বোঝেন এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন। তিনি এমন নেতৃত্ব চান, যিনি বাস্তব জীবনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন এবং শুধু কৌশল নয়, প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়তেও জানেন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তি নয়, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কোনও পরীক্ষা বা প্রশিক্ষণের ধারণা ভাল হলেও বাস্তবে তা অনেকটাই কল্পনাপ্রসূত। তবে মানুষের সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা এবং জবাবদিহি করার সংস্কৃতিই সবচেয়ে বড় শিক্ষা বলে মনে করেন তিনি।

নিজে যদি কখনও নির্বাচিত প্রতিনিধি হন, তবে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্ব ভুলবেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি। রাজনীতিতে অনেক সময় ক্ষমতা পাওয়ার পর মানুষের থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, সেটি বদলাতে চান তিনি। পাশাপাশি, নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত হওয়া কঠিন বলেও মনে করেন, কারণ ক্ষমতা ও প্রভাবের আকর্ষণ অনেক বড়।দলবদল প্রসঙ্গে তাঁর মত, বর্তমানে রাজনীতি অনেকাংশে পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মতাদর্শের জায়গা অনেকটাই কমে গেছে। তবে নির্বাচনের পর দলবদলের মতো ঘটনাকে তিনি দেশের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে দেখেন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর নিয়মের পক্ষে মত দেন। রাজনীতিতে অপশব্দ ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত বলেও স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ইন্টারভিউয়ের মাঝেই বিপত্তি! ক্যামেরার সামনেই আচমকা অসুস্থ অভিনেত্রী! কথা বলতে বলতেই লুটিয়ে পড়লেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

সমাজকল্যাণমূলক ভাতা প্রসঙ্গে পরমব্রত মনে করেন, গরিব মানুষের হাতে অর্থ তুলে দেওয়া খারাপ নয়, বরং তা অনেক সময় ইতিবাচক ফল দেয়। তবে এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি। তাঁর মতে, বিরোধীহীন রাজনীতি গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। পাশাপাশি, তিনি বিভিন্ন প্রজন্মের একাধিক রাজনীতিবিদের কাজকে সম্মান জানিয়েছেন এবং বর্তমান রাজনীতিতেও কিছু নেতার কাজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

Back to top button