ইন্টারভিউয়ের মাঝেই বিপত্তি! ক্যামেরার সামনেই আচমকা অসুস্থ অভিনেত্রী! কথা বলতে বলতেই লুটিয়ে পড়লেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) তথা ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্পষ্টবাদী এবং দক্ষ অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজের শর্তে কাজ করে চলেছেন তিনি। তিনি মানেই পর্দার শিউলি কিংবা বিবি পায়রা চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়তে তিনি পিছপা হন না। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন হোক বা সামাজিক কোনো ইস্যু, স্বস্তিকা বরাবরই সোজা কথা সোজাভাবে বলতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের কর্মজীবন এবং মনের গহীন কোণের অনেক না বলা কথা তুলে ধরেন। তবে আলোচনার মাঝপথেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় থমকে গিয়েছিল গোটা আয়োজন।

বর্তমানে স্বস্তিকার আসন্ন কাজ বা সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বিবি পায়রা’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ছবিটিতে তিনি ‘শিউলি’ নামক এক সাধারণ গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। স্বস্তিকার কথায়, এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তাঁর মধ্যবিত্ত সত্তাটি তাঁকে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। ১০ই এপ্রিল মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বর্তমান বাংলা সিনেমার হলের সমস্যা এবং অসম প্রতিযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। হাউসফুল শো থাকা সত্ত্বেও কেন অনেক ক্ষেত্রে শো নামিয়ে দেওয়া হয়, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী ও তাঁর সহ-অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়।

সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বস্তিকা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বাবা-মায়ের চলে যাওয়া এবং একমাত্র মেয়ে অন্বেষার পড়াশোনার সূত্রে বিদেশে থাকা— এই শূন্যতা তাঁকে একাকীত্ব জয় করতে শিখিয়েছে। অভিনেত্রী জানান, একটা সময় তিনি একা ঘর অন্ধকার করে খেতে বা ঘুমাতেও ভয় পেতেন, কিন্তু আজ তিনি একাই সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে পাহাড়ের ট্রেল ধরে একা হাঁটা সবটাই দারুণভাবে উপভোগ করেন। তাঁর কথায়, জীবনের ধাক্কাই তাঁকে নিজেকে প্রায়োরিটি দিতে শিখিয়েছে। আজ তিনি আর কারোর সঙ্গের জন্য অপেক্ষা করেন না, বরং নিজের ইচ্ছেগুলো নিজেই পূরণ করেন।

এর পাশাপাশি, সমাজের দ্বিচারিতা এবং নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কড়া আক্রমণ শানান স্বস্তিকা। ‘বডিশেমিং’ বা চেহারা নিয়ে ট্রোলিং যে আজও পিছু ছাড়েনি, তা নিয়ে তিনি বিরক্ত। বিশেষ করে তাঁর মেয়ের বডি টাইপ বা সৌন্দর্য নিয়ে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর আলোচনা করেন, তাঁদের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও বিবাহিত নারীদের শারীরিক চাহিদা এবং তাঁদের মনের কথা প্রকাশের ক্ষেত্রে সমাজের যে আজও এক অদ্ভুত ট্যাবু রয়েছে, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, সমাজ আজও এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে ভয় পায়, যা আদতে এক মানসিক জড়তা।

আরও পড়ুন: আর ফাঁকা আওয়াজ নয়! রক্তিমকে রুখতে ম’রণপণ লড়াইয়ে দিতি! পারবে কি ইন্দুকে রক্ষা করতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

তবে ইন্টারভিউয়ের মাঝে হঠাৎ লক্ষ্য করা গেল স্বস্তিকার শারীরিক অস্বস্তি। দীর্ঘক্ষণ টানা কাজ এবং সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে কথা বলতে বলতেই অভিনেত্রী কিছুটা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। কপালের ঘাম আর চোখের চাউনিতে ক্লান্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে মনে হচ্ছিল ইন্টারভিউটি হয়তো মাঝপথেই স্থগিত করতে হবে। অসুস্থ শরীরেও হাসিমুখে কাজ শেষ করার যে অদম্য জেদ স্বস্তিকা দেখিয়েছেন, তা আরও একবার প্রমাণ করে দেয় তাঁর পেশাদারিত্ব। তবে বিষয়টা একেবারেই গুরু গম্ভীর নয় সাক্ষাৎকারের এবং সিনেমার একটি অংশ মাত্র অভিনেত্রী হয়তো ফুটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাই দর্শকদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।

Back to top button