‘অপছন্দের কাউকে বিয়ে করলে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে না…রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে কোনও সম্পর্ক থাকবে না!’ বর্তমান সময়ের প্রেমে সংযমের অভাব? মেয়ের বিয়ে নিয়ে বি’স্ফোরক শতাব্দী রায়!

টলিউডের (Tollywood) একসময়ের হার্টথ্রব অভিনেত্রী এবং বর্তমানে বীরভূমের দাপুটে সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) বরাবরই স্পষ্টবক্তা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন এবং বর্তমান সময়ের প্রেম-বিয়ে নিয়ে তার করা কিছু মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নিজের মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং সম্পর্ক নিয়ে তার ‘কঠিন’ অবস্থান দেখে চমকে গেছেন অনেকেই।
নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক সিনেমার অবিসংবাদিত রানী শতাব্দী রায়ের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদারের হাত ধরে। কয়েক দশকে কয়েকশ সুপারহিট ছবি উপহার দেওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে পরপর তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও কবিতাতেও তার সমান দখল। তবে পর্দার রোমান্টিক নায়িকা বাস্তব জীবনের প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে যে এতটা কঠোর হতে পারেন, তা এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে শতাব্দী বলেন, “এখন প্রেম মাস বা দিনে নয়, বরং ঘণ্টায় নেমে এসেছে।” তার মতে, এখনকার ছেলে-মেয়েদের হাতে প্রচুর অপশন থাকায় তাদের মধ্যে ধৈর্য কমে গিয়েছে। লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আট-দশ বছর লিভ-ইন করলে বিয়ে করে নেওয়াই শ্রেয়। তবে তার সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি ছিল তার মেয়ের বিয়ে প্রসঙ্গে। শতাব্দী জানান, তার মেয়ে এখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে, কিন্তু তিনি এখন থেকেই নিজেকে মানসিকভবে প্রস্তুত করছেন।
মেয়ের পছন্দ বা বিয়ে নিয়ে শতাব্দী সাফ জানান, “যদি মেয়ে এমন কাউকে বিয়ে করে যা আমি সহ্য করতে পারব না, তবে আমি কোনো ধুমধাম বা খরচ করব না। শুধু ওদের ডেকে রেজিস্ট্রি করিয়ে দেব আর দরজা থেকে টা-টা করে দেব। তারপর আমার সাথে আর কোনো যোগাযোগ থাকবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মেয়ের অনেক কিছুই হয়তো তিনি মেনে নিতে পারবেন না, আর সেই দুঃখ পাওয়ার অভ্যাস তিনি এখন থেকেই করছেন। একজন মায়ের এমন ‘নির্লিপ্ত’ ও ‘কঠোর’ অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হঠাৎ করেই সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে আগুন! অ’গ্নিদগ্ধ ঘর আসবাবপত্র! কি অবস্থায় রয়েছেন অভিনেতা?
সাক্ষাৎকারে রাজনীতির আঙিনায় তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ অনুব্রত মন্ডলকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে ‘রঙিন মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন শতাব্দী। এছাড়া গায়ক অমিত কুমারের প্রতি তার একসময়ের গভীর ও একতরফা প্রেমের কথাও সলজ্জে স্বীকার করেন তিনি। একদিকে অভিনেত্রী সত্তা, অন্যদিকে সংসদীয় দায়িত্ব—সব মিলিয়ে শতাব্দী রায় যে এখনও লাইমলাইটে থাকতে জানেন, তা এই সাক্ষাৎকারটি আবারও প্রমাণ করে দিল।

