হঠাৎ করেই সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে আগুন! অ’গ্নিদগ্ধ ঘর আসবাবপত্র! কি অবস্থায় রয়েছেন অভিনেতা?

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে শহরের একাধিক আবাসনে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে কলকাতায়। চলতি মাসের শুরুতেই অভিনেত্রী নুসরত জাহান এর আবাসনে শিবরাত্রির দিনে একটি প্রদীপ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিনেত্রী পায়েল সরকার এর আবাসনেও শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসে। পরপর এই দুই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দক্ষিণ কলকাতার সাউথ এভিনিউ এলাকায় আরেকটি বহুতলে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা স্বাভাবিকভাবেই বাসিন্দাদের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি সাউথ এভিনিউর আনন্দ বহুতলে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রথমে মনে করেন, অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায় এর বাড়িতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত গুজব ছড়াতে শুরু করলে নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেন সাহেব। তিনি জানান, আগুন লেগেছিল তাঁর পাশের বাড়ি আনন্দ বিল্ডিংয়ে, তাঁর নিজের ফ্ল্যাটে নয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের তৎপরতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
সাহেব সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ভয়াবহ আগুন লাগলেও কোনও বাসিন্দার ক্ষতি হয়নি। তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ছিল স্বস্তি এবং কৃতজ্ঞতার সুর। ঘটনাস্থলে অল্প সময়ের মধ্যেই দমকলের একাধিক গাড়ি পৌঁছে যায়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, ফলে সম্ভাব্য বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান আবাসনের বাসিন্দারা।
তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট না অন্য কোনও ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। যদিও এই ঘটনায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর মেলেনি, তবু বারবার এমন দুর্ঘটনা শহরবাসীর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বহুতল আবাসনে বসবাসকারীদের কাছে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নীচে নামা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে যাঁরা ওপরের তলায় থাকেন তাঁদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
আরও পড়ুনঃ ‘এখানে সততার দাম নেই, চারিদিকে শুধুই বিশ্বাসঘাতকতা…’ কন্ট্রাক্ট থাকার পরেও কাজ হারালেন অভিনেত্রী! কেনো? কি এমন করেছিলেন তিনি? ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে বাদ পড়া নিয়ে মুখ খুললেন তন্নি লাহা রায়!
এক মাসে তিনটি আলাদা আবাসনে আগুন লাগার ঘটনা নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয়। সৌভাগ্যবশত কোনও প্রাণহানির খবর না থাকলেও এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা সতর্কবার্তা দিচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার। নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। নাহলে এমন অঘটন যে কোনও সময় বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

