‘পুরুষদের অধিকারের কথা বলি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুরুষের সব অন্যায়কে আমরা ঢাকা দেব!’ ‘যিনি নিজে একজন আইনজীবী, তিনি কি করে একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন?’ হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম এর সভাপতি নন্দিনী ভট্টাচার্য!

সম্প্রতি দীর্ঘদিনের বান্ধবী ঋতিকার সঙ্গে সামাজিক বিয়ে সেরেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। এটি হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটিয়ে এই নতুন পথ চলা শুরু করেছেন তিনি। তবে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে যেমন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তেমনই মুখ খুলেছেন পুরুষ অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম’-এর সভাপতি নন্দিনী ভট্টাচার্য।

বর্তমানে লিঙ্গ বৈষম্য ও নারী অধিকার নিয়ে চারিদিকে যখন প্রবল চর্চা, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে পুরুষদের আইনি সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলে নজর কেড়েছেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। ‘অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম’-এর সভাপতি হিসেবে তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে পুরুষদের প্রতি হওয়া সামাজিক ও আইনি অবিচারের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম বা তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরুষদের হয়ে কথা বলেন তার মানে এই নয় যে, কোনো পুরুষ ভুল করলে বা অপরাধ করলে তিনি তাকে আড়াল করবেন। তাঁর কথায়, “আমরা পুরুষদের অধিকারের কথা বলি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুরুষের সব অন্যায়কে আমরা ঢাকা দেব।” হিরণের ক্ষেত্রেও তিনি বিচার্য বিষয় হিসেবে দেখেছেন সম্পর্কটি আইনিভাবে বৈধ কি না।

নন্দিনী ভট্টাচার্য তাঁর সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে, হিরণ যাকে বিয়ে করেছেন তিনি পেশায় একজন মডেল এবং আইনজীবী। এখানেই নন্দিনী দেবীর মূল প্রশ্ন একজন আইনজীবী হিসেবে অনিন্দিতা কি জানতেন না যে প্রথম পক্ষের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় বিয়ে আইনত দণ্ডনীয়? তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, হিরণ যদি প্রথম স্ত্রীর বর্তমান থাকাকালীনই নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন বা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে একজন আইনজ্ঞ হিসেবে তাঁর স্ত্রীর ভূমিকা কী ছিল?

আরও পড়ুনঃ মেঘার নতুন ষড়’যন্ত্রে ঘাত’ক মোড়! নেশার ঘোরে ফাঁস হলো কুসুমের পরিচয়, কুসুম-আয়ুষ্মানের সম্পর্ক বিপদে!

হিরণ যদি তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসে থাকেন, তবে সেটি ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ। একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে, যেখানে তিনি সমাজ সেবার সাথে যুক্ত তিনি কি করে এমন কাজ করলেন? তিনি বলেন, “যিনি নিজে একজন আইনজীবী, তিনি কি করে একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন?” এটি কেবল হিরণের একার ভুল নয়, বরং একজন আইনজ্ঞ হিসেবে তাঁর স্ত্রীরও নৈতিক স্খলন বলে তিনি মনে করেন। সাধারণ মানুষ একজন নেতাকে ভোট দিয়ে জেতান তাঁর ওপর ভরসা করে। নন্দিনী ভট্টাচার্যের মতে, পারিবারিক জীবনে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তবে জনসেবার ক্ষেত্রেও সেই ব্যক্তির ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।

Back to top button