“তুমি বি’ষ খাওয়াতে পারবে না”— মিঠু চক্রবর্তীর মুখে শাশুড়ি-বৌমার নিঃশর্ত ভালোবাসার গল্প! সম্পর্কের শুরুটা ছিল শর্তের, শেষটায় চোখের জল! এমন সম্পর্ক আজকের দিনে এক বিরল দৃষ্টান্ত!

আজকের দিনে শাশুড়ি-বৌমার সম্পর্ক মানেই যেন বিরোধ, তিক্ততা আর মানসিক দূরত্ব। বাস্তব জীবন থেকে ধারাবাহিক— সব জায়গাতেই এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হয় দ্বন্দ্বের ছক। একই ছাদের নিচে থেকেও একে অপরের প্রতি সন্দেহ, অভিমান আর চাপা অভিব্যক্তি যেন এক অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দেয় তাঁদের মাঝখানে। অথচ একটা সময় ছিল, যখন এই সম্পর্কটাও ছিল বন্ধুত্ব এবং নির্ভরতার। আজ সেই নজির খুবই বিরল, ঠিক সেই জায়গা থেকেই উঠে এলো ‘মিঠু চক্রবর্তী’র (Mithu Chakraborty) গল্প। যা বোঝায়– ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা থাকলে সম্পর্ক যেকোনও সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রায় বছর খানেক ধরে অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন মিঠু। শরীর ভেঙে পড়েছিল, চিকিৎসকের পরামর্শে অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নিতে হয়েছিল তাঁকে। ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’-এ শংকরের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে করতেই ধরা পড়ে ক্যা’ন্সার। শুরু হয় কেমোথেরাপি, কষ্টের দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে তিনি নিজেই জানিয়েছেন— এখন অনেকটাই সুস্থ, ফিরতে চাইছেন অভিনয়ে। ইতিমধ্যে স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করেছেন তিনি।

কেমোথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও, তিন মাস অন্তর চেকআপ করালেই চিকিৎসকদের ছাড় মিলেছে। তাই গাড়ি নিয়ে মাঝেমাঝে বেরিয়েও পড়ছেন মনের জোরে। সম্প্রতি রাহুল অরুণোদয়ের পডকাস্টে এসে জীবনের নানা অধ্যায় ভাগ করে নিয়েছেন মিঠু। সেখানে কেবল ক্যা’ন্সার যুদ্ধে জয় নয়, উঠে এসেছে এক মধুর সম্পর্কের গল্পও— তাঁর শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্ক। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বিয়ের পর যেদিন প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে পা রেখেছিলেন, সেদিন শাশুড়ি সাফ জানিয়ে দেন— তিনি কখনওই তাঁর মেয়ে লাভলির মতো করে বৌমাকে ভালোবাসতে পারবেন না।

নিজের জায়গা নাকি তৈরি করতে হবে মিঠুকেই! তখন মাত্র ২৩ বছরের তরুণী, ভিতরে ভিতরে কেঁপে উঠেছিলেন বটে, তবে পরে বুঝেছিলেন— শাশুড়ি মা আসলে নির্মল হৃদয়ের মানুষ। সেই সম্পর্কের পরিণতি ছিল হৃদয় ছোঁয়া। সকালবেলা ঝগড়া হলেও বিকেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মিটমাট হয়ে যেত, ঠিক যেন মা-মেয়ের মতো। মিঠু জানান, এক সময় এমন অবস্থা হয়েছিল, শেষ জীবনে অসুস্থ শাশুড়িকে হাসপাতালে ভর্তি করালে মেয়ের দেখা না চেয়ে তিনি শুধু মিঠুকেই খুঁজতেন!

শাশুড়িকে অসুস্থতার সময় ওষুধ খাওয়ানো নিয়ে মিঠু একবার ঠাট্টা করে বলেছিলেন, “আপনি তো জানেন না কী খাওয়াচ্ছি!” শাশুড়ির জবাব ছিল, “আর যাই হোক, বিষ তুমি আমায় খাওয়াতে পারবে না!” এমন সম্পর্ক আজকের দিনে খুব একটা দেখা যায় না। এই ভালোবাসারই নিঃশব্দ প্রমাণ রেখে গেছেন মিঠুর শাশুড়ি মা। অভিনেত্রী বলেন, তাঁর দুই ছেলের মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল সেই মানুষটারই। আজও শাশুড়ির স্মৃতি তাঁকে ঘিরে থাকে।

আরও পড়ুনঃ বিনোদন জগতে ফের নক্ষত্রপতন! না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, ৮৭ বছর বয়সেই থমকে গেল জীবন!

মা-মেয়ের সম্পর্ক যে রক্তের বাঁধনে গাঁথা না হলেও গড়ে উঠতে পারে আন্তরিকতায়, বিশ্বাসে— মিঠু চক্রবর্তী ও তাঁর শাশুড়ির গল্প তারই এক বাস্তব উদাহরণ। আজ যখন রিল লাইফ থেকে রিয়েল লাইফ— সবখানেই শাশুড়ি-বৌমার মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের ছবি ফুটে ওঠে, তখন এই গল্পটা যেন সাহস দেয়, আশ্বস্ত করে— আন্তরিকতা থাকলে সম্পর্ক অটুট রাখাই যায়। আজ অভিনেত্রী নিজেও শাশুড়ি, তবে আজকের যুগে দাঁড়িয়ে মনে করেন শুধু বউরা কেন ছেলেদেরও বাপের বাড়ি থাকা উচিত। সেই কারণেই দুই ছেলের জন্য কিনে দিয়েছেন আলাদা বাসস্থান।

Back to top button