‘অভিনয় ছাড়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রোজগার!’ ‘হাজার টাকার ভাতার দিন শেষ!’ ‘দু নৌকায় পা দিইনি, কাজ হারিয়েও আপোষ করিনি!’ অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতি! অকপটে লকেট চট্টোপাধ্যায়!

বাংলার মহিলারা শুধু সরকারি ভাতার ওপর ভরসা করে বেঁচে থাকতে চান না, তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বনির্ভর হতে চান। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। তিনি স্পষ্ট জানান, কাউকে প্রতি মাসে হাজার বা বারোশো টাকা দেওয়ার চেয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করা অনেক বেশি জরুরি। তাঁর মতে, ভোট ব্যাংক গোছানোর জন্য শুধু ভাতা দেওয়ার রাজনীতি না করে, নারীদের প্রকৃত অর্থে স্বাবলম্বী করে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

নারী কল্যাণে দলের চিন্তাভাবনা তুলে ধরে লকেট চট্টোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে বহু নারী এই প্রকল্পের মাধ্যমে সফল হয়েছেন। এছাড়া ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’-র মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বিউটি পার্লার, জুয়েলারি তৈরি বা ফুল বিক্রির মতো প্রায় ১৮টি পেশার সাথে যুক্ত নারীরা সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে লোন সুবিধা পাবেন। বাংলায় মহিলাদের জন্য নতুন করে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ চালু করা হলেও, লকেট মনে করিয়ে দেন যে এটি কোনো দয়া বা দান নয়, বরং নারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর একটি প্রাথমিক সরকারি সহযোগিতা।

সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের ফেলে আসা কঠিন দিনগুলোর কথা শেয়ার করেন লকেট। তিনি জানান, ২০১৫ সালে যখন তিনি অভিনয় জগত ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে যোগ দেন, তখন তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমনকি রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বেশ কিছু সিনেমা ও সিরিয়ালের কাজ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। দীর্ঘ তিন-চার বছর কোনো রোজগার না থাকায় তিনি তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েন। তবে কোনো প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত না করে দলের দেওয়া নানা সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন এবং গ্রাউন্ড লেভেলে কর্মীদের পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

বাংলার নারী নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই নেত্রী। সমাজে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে তিনি একটি গুরুতর ‘মানসিক ব্যাধি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সমস্যাকে কোনো রাজনৈতিক দলের চশমা দিয়ে দেখা উচিত নয়। স্কুল-কলেজ এবং পারিবারিক স্তর থেকেই শিশুদের সঠিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। কোনো অপরাধী যাতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে না যায়, তার জন্য তাদের সরকার কড়া নজর রাখছে এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুনঃ ‘আজকালকার কেউ মনে দাগ কাটে না…’ ‘পেছনে ফিরে কী হবে? আমি সামনে তাকাতে চাই!’ ‘যত বয়স বাড়ে, ফেলে আসা দিনগুলো তত বেশি মনে পড়ে!’ টলিউডের সোনালী যুগের গল্পে স্মৃতিকাতর দুই কিংবদন্তি মাধবী মুখোপাধ্যায় ও দীপঙ্কর দে!

সবশেষে, বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার নিয়ে কথা বলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিগত দিনে মহাপুরুষদের ছবির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি যেভাবে ব্যবহার করা হতো, তা বাংলার মানুষ মনে মনে পছন্দ করতেন না। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে এবং বাস স্ট্যান্ড বা বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণদেব, শরৎচন্দ্র ও বঙ্কিমচন্দ্রের মতো মণীষীদের ছবি সসম্মানে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এছাড়া গঙ্গার ঘাটগুলোর সংস্কার ও কাশীর মতো গঙ্গা আরতির ব্যবস্থা করে বাংলার প্রাচীন সনাতনী সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Back to top button