বাড়িতে আসার সময় অভিনয়ের খোলসটা বাইরেই ছেড়ে আসতেন! উত্তম কুমারের অজানা গল্প ভাগ করে নিলেন মহানায়কের দুই পুত্রবধূ!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে (Film Industry) তিনি সবসময় একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাঙালির কাছে তিনি সবসময় সুপুরুষ নায়ক। যার নাম কখনোই বাঙালির হৃদয় থেকে মুছে যাবে না, তিনি হলেন সকলের প্রিয় উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। আজ, ২৪ জুলাই, মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে এরকমই একটি দিনে মহানায়কের মৃত্যু সংবাদ থমকে দিয়েছিল গোটা দুনিয়াকে।
মাত্র ৫৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সকলকে চিরবিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল চলচ্চিত্র জগতে। ইন্ডাস্ট্রির সেই ক্ষতি আজ পর্যন্ত কেউ মেটাতে পারেনি। উত্তম কুমারের জায়গা বাঙালির মনে কেউই নিতে পারেনি কখনো, ভবিষ্যতেও তার জায়গায় তারই থাকবে।
চলচ্চিত্র জগতে আমরা অভিনেতাকে যেমন দেখে এসেছি বাস্তব জীবনে অভিনেতা কেমন ছিলেন জানেন? বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ সকলকে নিয়ে কেমন ভাবে কাটতো উত্তম কুমারের জীবন? সকলেরই সেই সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে। তখনকার দিনে তো সোশ্যাল মিডিয়া ছিলই না যোগাযোগের মাধ্যম বলতে শুধুমাত্র টেলিফোন ছিল। তাই অভিনেতা অভিনেত্রীদের ঘরের খবর ঘরেই থাকত। খুব বেশি তা নিয়ে চর্চা হতো না। যদিও উত্তম কুমারের ব্যক্তিগত জীবনের নানান ঘটনা নিয়ে চর্চা হয়েছে কিন্তু অভিনেতাকে ঘরোয়া ভাবে কখনোই দেখেননি বাঙালি।
এইবার উত্তম কুমারের মৃত্যুবার্ষিকীতে অভিনেতার দুই ছেলের বউয়ের কাছ থেকেই জানা গেছে বাড়িতে আদতে কেমন ছিলেন সকলের প্রিয় মহানায়ক। অভিনেতার দুই ছেলের বউ তাকে বাবি বলে সম্বোধন করতেন। বাড়িতে একেবারেই সাদামাটা ভাবে পরিবারের মানুষের সাথে সময় কাটাতেন। বড় ছেলের বউ ছিল অভিনেতার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মেয়ে। তাকেই নিজের বড় ছেলের পুত্রবধূ হিসেবে এনেছিলেন। তাই বড় বৌমার কাছে তিনি প্রথম থেকেই উত্তম কাকু ছিলেন, বিয়ের পর বাবি হয়ে ওঠেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ওরা বলতো এভাবে খাওয়া যাবে না…আমার খুব খারাপ লাগতো!’ এক সময় শুটিং সেটে শুনতে হয়েছে খোঁটা, “মোটা” বলে করা হয়েছিল অপমান! সাক্ষাৎকারে প্রথমবার মুখ খুললেন শ্বেতা ভট্টাচার্য
ছোট বৌমা বিয়ে হয়ে আসার পর অনেক সময় বিশ্বাসই করতে পারতে না উত্তম কুমার তার সামনে রয়েছে। তিনি উত্তম কুমারের পুত্রবধূ। তাই একটু ভয় পেতেন শ্বশুরমশাইকে। তবে শ্বশুরমশাই কিন্তু কখনোই বৌমাদের বকাঝকা করেননি। বরং জন্মদিনে সবসময় প্রতিবছর ভালোবেসে উপহার দিতেন নিজের হাতে করে। বাড়িতে যেন তিনি নায়কের খোলসটা একেবারেই খুলে রেখে চলাফেরা করতেন। অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কম চর্চা হয়নি সেইসময়। একাধিক নায়িকার সঙ্গে সেই সময় অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও জানা গিয়েছিল। যা নিয়ে এখনো চর্চা হয়।

