মনে আছে সেই গাইয়ে গুপীকে? একের পর এক অসাধারণ ছবি উপহার দিয়েছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা! ফুসফুসের ব্যাধিতে য’ন্ত্রণায় কেঁপে উঠেছিল শরীর! কেমন ছিল তপেন চট্টোপাধ্যায়ের শেষ জীবন?

সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) কালজয়ী সিনেমা গুপী গাইন বাঘা বাইন সম্পর্কে নিশ্চয় আলাদা করে আর কিছু বলতে হবে না। ১৯৭০ সালের নির্মিত এই ছবি আজও বাঙালি দর্শকের মনে বিরাট চাপ ফেলে রেখেছে। ছবিতে গুপী বাঘা দুজনের অভিনয়ই দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছে বার বার। যতই দিন যাক এই ছবি কখনোই পুরনো হবে না।

তবে জানেন কি ছবিতে গুপী অর্থাৎ অভিনেতা তপেন চ্যাটার্জিকে কোথা থেকে খুঁজে পেয়েছে সত্যজিৎ রায়? তপেন চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর। পরশুনা শেষ করে চাকরির উদ্দেশ্যে রাজস্থান পাড়ি দেন তিনি। তিনি ছিলেন একজন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার। খুব অল্প বয়সেই অভিনেতা রাজস্থানের একটি বিকানীরে চাকরি করতেন। সেখানকার জিপসাম মাইনস-এ রোজ দু’টাকা দু’আনা পারিশ্রমিক মিলত। কিন্তু অত দূরে রাজস্থানের কাজে মন বসাতে পারছিলেন না অভিনেতা। বছর দুই চাকরি করার পর শেষ পর্যন্ত কলকাতায় ফিরে আসেন অভিনেতা। এসে যোগ দিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটকের দলে। সত্যজিতের ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় কাজ করতেন তপেন।

অভিনয় জীবনে খুব বাছাই করে কাজ করেছেন অভিনেতা। মাত্র ১৮টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে সেই সবকটি ছবি দর্শকের মনে দাগ কেটে রয়েছে। তার পর তো জীবনের মোড়ই ঘুরে গেল তপেন চট্টোপাধ্যায়ের। গুপী রূপে তিনি পেলেন বিশ্বজোড়া খ্যাতি। তারপর থেকে আজও গুপী নামেই তিনি পরিচিত। গুপী বাঘার তিনটি ছবিতেই রবি ঘোষের সাথে জুটি বেঁধেছিলেন।

এছাড়াও তার ঝুলিতে যে সমস্ত ছবি আছে তারমধ্যে অন্যতম হলো, গুপী বাঘা ফিরে এলো, সঙ্গিনী, ঠগিনী, গণদেবতা, ধন্যি মেয়ে, হীরক রাজার দেশের মতন একাধিক কালজয়ী বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন। অল্প কিছু ছবিতে অভিনয় করলেও প্রত্যেকটি ছিল হিট। এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ছবিগুলো যে আজও দর্শকদের মনে লেগে আছে।

আরও পড়ুনঃ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতে ধর্ষণের দৃশ্য অভিনয়! শুটিং সেটেই গলগল করে রক্ত বেরিয়েছিল মৌসুমী চ্যাটার্জির শরীর থেকে! ভয়ংকর অভিজ্ঞতার শিকার অভিনেত্রী!

যেকোনো চরিত্রকেই পর্দায় দক্ষ ভাবে ফুটিয়ে তুলতেন অভিনেতা। শেষবার অভিনেতাকে দেখা গিয়েছিল ২০০৯ সালে নরক গুলজার ছবিতে অভিনয় করতে। তারপরের বছর অর্থাৎ ২০১০ সালের ২৪ মে ইহলোক ছেড়ে পরলোক গমন করেন তিনি। শেষ জীবনে ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেতা। সেই থেকেই মৃত্যু হয়। আমাদের পক্ষ থেকে অভিনেতার আত্মার শান্তি কামনা করি আমরা।

Back to top button