“বিচারপতি হওয়া আর হলো না, অভিনেত্রী হয়ে গেলাম”—আইনজীবীর পথ ছেড়ে সোজা লাইট ক্যামেরা একশন! কিভাবে বদলে গেল অভিনেত্রীর স্বপ্ন? সেই গল্প নিয়েই অকপটে ইশা সাহা!

আজ যাকে আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখি, যাঁর মুখ চেনা টলিউডপ্রেমী দর্শকের কাছে, সেই ইশা সাহা কখনও নিজেও ভাবেননি তিনি একদিন অভিনয়ের দুনিয়ায় এতটা আপন হয়ে উঠবেন। বরং তার ছোটবেলা কেটেছে এক জায়গায় থিতু না হয়েই—একবার এখানে তো আরেকবার অন্য কোথাও। পড়াশোনার জন্য জায়গা বদলের অভ্যেসটা এমন হয়ে গিয়েছিল যে একটা নির্দিষ্ট শহরের স্মৃতিও যেন কিছুটা ঝাপসা।
লিলুয়ায় কাটানো স্কুলজীবনটা ছিল ঠিক সবার মতোই। বন্ধু, পড়াশোনা, পরিবার—সবকিছু মিলিয়ে দিন চলত সহজেই। ছোটবেলায় অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছেটা কোথাও ছিল না। বরং জীবনের গতি অন্য একদিকে এগোচ্ছিল, যেদিকে লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হওয়ার। এবং সেই স্বপ্নটা এসেছিল কাছের এক মানুষের থেকে—একজন সিনিয়র, যাঁর সঙ্গে তখন সম্পর্ক ছিল ইশার।
আইনে পড়ার কথা ভাবলেও, ভর্তি হওয়া পর্যন্ত কোনও রকম তাড়াহুড়ো ছিল না। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির ‘ল’ এন্ট্রান্স ফর্ম ফিলাপের শেষ দিনে, বিকেল পাঁচটার ঠিক আগে আগে গিয়ে জমা দিলেন ফর্মটা। অনেকেই হয়তো হেসে উড়িয়ে দিতেন এমন খামখেয়ালিপনা। কিন্তু ইশার জন্য এটাই ছিল প্রথম মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ। তখনও তিনি জানতেন না, সামনে অপেক্ষা করে রয়েছে একদম ভিন্ন এক জগত।
আইনের ক্লাসের মাঝে যখন ইন্টার্নশিপ করছিলেন, তখনই ঘটে সেই ঘটনাটা। এক ব্যক্তি তার নম্বর চায়, যার কিছুদিন পরেই আসে অদ্ভুত এক ফোনকল—টিভি শোতে কাজ করার প্রস্তাব। তখন ছুটি ছিল, তাই অভিজ্ঞতা নিতে গিয়েছিলেন। ভাবেননি এটাই জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু হবে। সেখানে গিয়ে জানা গেল, সাতদিনের একটি ওয়ার্কশপ চলছে। সেই ওয়ার্কশপটা শেষ করতেই, তার হাতে এল ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এর অফার।
আরও পড়ুনঃ প্রথমবার নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মুখোমুখি ফুলকি! মা কালীর এই ইঙ্গিত বুঝতে পারবেতো ফুলকি? প্রকাশ্যে ফুলকির দুর্ধর্ষ প্রোমো!
শুরুর দিকে পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি অভিনয়ের পথে যাওয়াটা। তাঁদের মনে ছিল—মেয়ে একদিন বড়সড় আদালতের নামী আইনজীবী হবে। কিন্তু ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এর কাজ করার পর, ইশা নিজেই যেন টের পেলেন অভিনয়টা ধীরে ধীরে তার মনের ভেতর গেঁথে যাচ্ছে। সেখানে একটা আলাদা ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ ইশা সাহা টলিউডে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন। দর্শক তাকে ভালোবাসেন, চরিত্রে চরিত্রে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

