‘অভিনয়টা তোমার জন্য নয়, অন্য কাজ খোঁজো!’ ‘লুক নেই, ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, এখানে টিকতে পারবে না!’ ‘তুমি যতই ভালো করো, কাস্টিং অন্য কেউ হবে!’ অপমানের ক্ষত বুকে নিয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন অরুণাভ দত্ত?

টলিগঞ্জের (Tollywood) স্টুডিও পাড়ার বিকেলগুলো আর পাঁচটা জায়গার চেয়ে একটু আলাদা। সেখানে কতশত চোখের স্বপ্ন জমা পড়ে, আবার কত স্বপ্ন ভিড় করে হারিয়ে যায় গোধূলির আলোয়। ঠিক তেমনই এক চেনা অথচ রূপকথার মতো বাস্তব লড়াইয়ের গল্প নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুললেন অভিনেতা অরুণাভ দত্ত (Arunavo Dutta)। সম্প্রতি জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্মে সেই কথা ভাগ করে নিলেন তাঁর জীবনের সেই দিনগুলোর কথা, যখন প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা বাজলেই নিয়ম করে স্টুডিও পাড়ায় ছবি জমা দিতে যেতেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলমলে আলোর আড়ালে যে কতটা অন্ধকার আর কঠিন পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে, তাঁর এই যাপনচিত্র যেন আরও একবার তা প্রমাণ করল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে অভিনয় জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়াটা কোনোদিনই সহজ ছিল না অরুণাভের জন্য। কোনো গডফাদার বা চেনা পরিচিত ছাড়া শুধুমাত্র নিজের প্রতিভার ওপর ভর করে এই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন তিনি। শুরুর দিনগুলো ছিল চরম অনিশ্চয়তায় ভরা। দিনের পর দিন নতুন কাজের খোঁজে পরিচালকদের দরজায় কড়া নাড়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং সবশেষে একের পর এক প্রত্যাখ্যান বা ‘রিজেকশন’ সহ্য করা এটাই হয়ে উঠেছিল তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। কিন্তু এই সমস্ত প্রতিকূলতাও তাঁর অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাকে টলাতে পারেনি।
অভিনয় জগতে টিকে থাকার এই দীর্ঘ লড়াইকে অভিনেতা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক বলে মনে করেন। তিনি জানান, শুরুর দিকে বহুবার এমন হয়েছে যখন মাসের পর মাস কোনো কাজ পাননি, পকেটে ছিল টান আর মনে ছিল প্রবল মানসিক চাপ। কিন্তু প্রতিবার যখনই মনে হয়েছে আর পারবেন না, তখনই ভেতরের জেদটা আরও দ্বিগুণ হয়ে ফিরে এসেছে। অরুণাভের মতে, অভিনয়ের দুনিয়ায় টিকে থাকতে গেলে শুধু ভালো অভিনয় জানলেই চলে না, তার সঙ্গে প্রয়োজন অসীম ধৈর্য এবং মানসিক শক্তি, যা মানুষকে ভেঙে পড়তে দেয় না।
ধীরে ধীরে নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিষ্ঠার জোরে অরুণাভ নিজের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেন। ছোটখাটো চরিত্র থেকে শুরু করে নিজের অভিনয়ের ধার দিয়ে তিনি নজর কাড়েন নির্মাতা ও দর্শকদের। আজ যখন তিনি পেছনের দিকে তাকান, তখন বুঝতে পারেন যে সেই বিকেল পাঁচটায় স্টুডিও পাড়ায় ছবি জমা দেওয়ার দিনগুলোই তাঁকে আজকের এই পরিণত মানুষ ও অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রাপথ প্রমাণ করে যে, সততা আর পরিশ্রম থাকলে দেরিতে হলেও সাফল্যের দেখা মিলবেই।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! পিতৃবিয়োগে শোকস্তব্ধ টোটা রায়চৌধুরী! জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন অভিনেতা!
বর্তমান প্রজন্মের হাজারো তরুণ-তরুণী যারা রূপোলি পর্দার দুনিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য অরুণাভ দত্তর এই স্ট্রাগল স্টোরি বা লড়াইয়ের গল্প এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন যে, প্রথম কয়েকটা প্রজেক্টে সুযোগ না পেলেই যেন কেউ হাল ছেড়ে না দেয়। ব্যর্থতাই হলো সাফল্যের প্রথম ধাপ। অরুণাভের এই রূপকথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্ন যদি সত্যি দেখতে জানা যায় এবং তার পেছনে যদি জানপ্রাণ লড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে একদিন পুরো পৃথিবী সেই স্বপ্নের সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য।

