‘যোগ্যতা থাকলে কার্ডের কী দরকার?’ ‘চলচ্চিত্র জগৎ কোনো চাকরি নয়, ফ্রিল্যান্সিং’, ‘আর্টিস্ট ফোরাম আমায় কাজ দেয়নি, তাই…’ গত ১৫ বছরে টেকনিশিয়ানদের কী দিয়েছে ফেডারেশন? প্রশ্ন তুললেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) চলচ্চিত্র শিল্পের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, ফেডারেশনের ক্ষমতা এবং শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতা নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, চলচ্চিত্র জগত কোনো বাঁধাধরা চাকরি নয়, এটি সম্পূর্ণ যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল একটি ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যম। ফলে কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ান যোগ্য হলে, কেবল মাত্র মেম্বারশিপ কার্ড না থাকার অজুহাতে তাকে কাজ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অহেতুক নিয়মকানুনের বেড়াজালে জড়িয়ে কোনো শিল্পীর শিল্পসত্তাকে আটকে রাখা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম-এর সাথে যুক্ত থাকলেও হিরণ জানান যে, বিগত পাঁচ বছর ধরে তিনি এই সংগঠনের মেম্বারশিপ আর কন্টিনিউ করেননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আর্টিস্ট ফোরাম কাউকে কাজ এনে দেয় না। আমি যখন থেকে সিনেমায় অভিনয় করা কমিয়েছি, তখন থেকেই নিজের ইচ্ছায় মেম্বারশিপের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।” ফোরামে থাকলেই কাজ পাওয়া যাবে পৃথিবীর কোনো আইনে এমন কথা লেখা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে কিছু মানুষ নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে গ্রুপিজম ও ম্যানিপুলেশন করার চেষ্টা করেছে, যার রেশ এখনো কিছুটা রয়ে গেছে।

ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ানকে ‘ব্যান’ করা বা কাজ করতে বাধা দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন হিরণ। সহকর্মী সোমনাথ বাবুর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ভুল বোঝাবুঝি বা কাউকে কাজে আটকানোর চেষ্টা করা হলে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ তা রুখে দিয়েছে। হিরণ জোরালো গলায় দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে কাউকে ব্যান করার ক্ষমতা কারো নেই। যদি কেউ এমন দাদাগিরি করার চেষ্টা করে, তবে তাকে এই রাজ্য থেকেই বার করে দেওয়া হবে।” কোনো শিল্পী যাতে ভয়ের পরিবেশে কাজ না করেন, তার জন্য তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরও সবার উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত রাখার কথা জানান।

ফেডারেশন ও কনফেডারেশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হিরণ অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে বহু টেকনিশিয়ান তাদের বকেয়া টাকা পাননি এবং ফেডারেশন সেই টাকা উদ্ধার করে দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সংগঠনের নামে এতদিন এক শ্রেণীর মানুষ কেবল ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসেছে। প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো এই ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে এবার সরকারি স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্ত অসৎ উপায় চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ‘ঘরে খাবার ছিল না, প্রতিবেশীর থেকে চাল-ডাল চেয়েছি’, ‘আমি দুঃখ দেখাই না বলে সবাই হিং’সে করে’, কোটি কোটি মানুষকে হাসিয়েছেন যিনি, তাঁরই কপালে জুটেছে অবহেলা! টলিউডের রাজনীতি নিয়ে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী তনিমা সেন!

সর্বোপরি, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছেন হিরণ। তিনি জানান, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যেক শিল্পী ও টেকনিশিয়ান সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সুন্দর পরিবেশে কাজ করবেন। সমস্যার সমাধানের জন্য কেবল ফেডারেশনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই; রাজ্য সরকার, পুলিশ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে এবার কোনো সিন্ডিকেট বা ছড়ি ঘোরানো চলবে না, বরং আইনের শাসন মেনে শুধুমাত্র যোগ্যতার বিচারেই সবাই কাজ পাবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

Back to top button