অর্থের অভাবে ভাল-মন্দ খাবার জুটত না! ছোটবেলার ভয়ংকর অর্থাভাব নিয়ে মুখ খুললেন উত্তম কুমারের নাতি অভিনেতা গৌরব চ্যাটার্জী!

বাংলা টেলিভিশন জগতের (Bengali Television) জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন গৌরব চ্যাটার্জী (Gourab Chatterjee)। উত্তম কুমারের নাতি হিসেবে তিনি দর্শকের কাছে বিশেষ পরিচিত। তবে উত্তম কুমারের নাতির পরিচয় ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিতে যে নিজের আলাদা পরিচয় বানানো যায় সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন গৌরব। নিজের অভিনয় দক্ষতায় জিতে নিয়েছেন হাজার হাজার দর্শকের মন। ছোট পর্দায় হোক বা বড় পর্দা সব জায়গাতেই কাজ করেছেন অভিনেতা। তবে টেলিভিশন জগতে অভিনেতার পরিচিতি একটু বেশি। বর্তমানে গৌরবকে দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার তেঁতুল পাতা ধারাবাহিকে অভিনয় করতে।

অনেকেই হয়তো ভাবেন উত্তম কুমারের নাতি বলে হয়তো গৌরবের যাত্রাপথ খুবই সহজ ছিল। খুব সহজেই সবকিছু পেয়েছেন তিনি। তাকে কোন স্ট্রাগল করতে হয়নি। কিন্তু অনেকেই জানেন না গৌরবের ছোটবেলার স্ট্রাগলের কথা। অনেক কথাই আছে যেগুলো আমরা সব সময় জানতে পারি না। তেমনি গৌররের স্ট্রাগেলের গল্প অনেকের কাছেই অজানা।

বধূবরণ ধারাবাহিকের হাত ধরে প্রথম দর্শক মহলে পরিচিতি পান গৌরব। এরপরে আদরিনী, রানী রাসমনি, গাঁটছড়ার মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তা বিস্তার করেন। কিন্তু ছোটবেলায় এই অভিনেতাকেও অর্থ কষ্টে ভুগতে হয়েছে। ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছু কিনে খাবার সামর্থ ছিল না গৌরবের। সকলের সামনে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে হয়েছে।

একবার এক জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন কিভাবে পুজোর সময় সকলের সাথে খেতে বেরিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে হয়েছিল তাকে। গৌরব বলেন, ‘অভিজাত পরিবারের সন্তান হলেও ছোটবেলায় শখ করে নিজের খেয়াল খুশিমত টাকা ওড়ানোর অনুমতি আমাদের ছিল না। পুজোর সময় ভাই-বোনদের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার পর বিল দেখে আমার মাথায় হাত পড়ে। তখন আমাদের সকলের কাছেই খুব কম থাকা থাকত। যেটুকু বাড়ি থেকে হাত খরচ পেতাম আর কী। সে সময় সদ্য ৫ টাকার কয়েন বেরিয়েছিল। আমি জমাতাম। ব্যস এইটুকুই।’

আরও পড়ুনঃ ‘রাখিবন্ধনের দিন ওর একটা ফোনও এল না, কষ্ট হয়েছিল!’- সায়কের জন্যই পেয়েছিলেন কাজ! রাখিতে প্রাক্তন বৌদির থেকে ফোন না পেয়ে আবেগপ্রবণ অভিনেতা!

এরপর গৌরব বলেন, “একসঙ্গে ভাই-বোনেরা মিলে খেতে গিয়েছিলাম। খাবার শেষে বিল দেখে সবার মাথায় হাত। কারণ কারও কাছেই টাকা ছিল না। সবাই দাবি করেছিল আমি যদি আমার জমানো পাঁচ টাকাগুলো দিয়ে দিই। কিন্তু সেই টাকা দিতে আমি মোটেই রাজি ছিলাম না।” আসলে উত্তম কুমারের নাতি হলেও বাকি পাঁচজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা যেভাবে মানুষ হয় গৌরব ছোট থেকে সেভাবেই মানুষ হয়েছেন।

Back to top button