‘নতুন সরকারের কাছে পৌঁছাতে ওই রুদ্রনীলের প্রয়োজন নেই আমার…’ ‘চাল-ডাল-নুন গেলে শিল্প কেন যাবে না?’ দুই বাংলার কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা! তবুও আশাবাদী কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা হলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় (Koushik Ganguly)। যুগের পর যুগ ধরে তিনি আমাদের একের পর এক অসাধারণ সব মন ছুঁয়ে যাওয়া সিনেমা উপহার দিয়ে চলেছেন। ক্যামেরার পেছনে গল্প বুনেই হোক, কিংবা ক্যামেরার সামনে নিজের তুখোড় অভিনয় দিয়েই হোক তিনি সবসময়ই দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। সম্প্রতি তাঁর নতুন সিনেমা ‘আজ অর্ধাঙ্গিনী’র মুক্তি উপলক্ষে সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়ে তিনি সমসাময়িক রাজনীতি এবং দুই বাংলার বিনোদন জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট ও খোলামেলা মতামত জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে কৌশিকবাবুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এক বড়সড় বিতর্ক সামনে আসে। কিছুদিন আগে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ রাজনৈতিক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলেন। আর তাতেই নেটপাড়ায় ও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়ায় যে, তবে কি কৌশিকবাবুও বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রসঙ্গে পরিচালক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, নতুন কোনো সরকারের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাঁর রুদ্রনীল ঘোষের মতো কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। রুদ্রনীল তাঁর বহু পুরনো বন্ধু এবং ভাইয়ের মতো, তাই স্রেফ বন্ধুত্বের খাতিরেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, এর মধ্যে কোনো রাজনীতি ছিল না।

রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এক অদ্ভুত ও বাস্তবসম্মত জীবন দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে, পোশাকের রঙ বা মোবাইলের কভার দেখে মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় বিচার করাটা সম্পূর্ণ বোকামি। তিনি রসিকতা করে বলেন, কমলারঙা মোবাইল কভার ব্যবহার করলেই কেউ বিজেপি হয়ে যায় না, বা লাল জামা পরলেই সে সিপিএম হয়ে যায় না। তিনি সচেতনভাবেই চিরকাল রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছেন এবং আগামীদিনেও থাকবেন। তাঁর মতে, রাজনীতি একটা পেশা মাত্র এবং রাজনীতিবিদদের “মহামানব” বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই যেন স্টুডিও পাড়ার শিল্পকে রাজনীতির রঙ থেকে দূরে রাখেন, এটাই তাঁর একমাত্র চাওয়া।

এরপরই আলোচনায় উঠে আসে কলকাতা ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সিনেমা তৈরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া কিছু অনিশ্চয়তার কথা। টলিউডের কিছু কলাকুশলী বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন এবং তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে কৌশিকবাবু অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকারের ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস আছে। দুই দেশের মধ্যে যদি চাল, ডাল, চিনি বা নুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আমদানি-রপ্তানি ও ব্যবসা অবাধে চলতে পারে, তবে শিল্পের আদানপ্রদান বা শিল্পীদের যাতায়াত কেন আটকে থাকবে? শিল্প বা গানের তো কোনো কাঁটাতারের সীমানা হয় না।

আরও পড়ুনঃ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বন্দী উজি! নিজের হাতে বোনের ক’বর খুঁড়লো দিদি! ঘরের বাইরে টাইম বো’ম ফিট করলো নিশা-ভানু! দুর্ধর্ষ জোয়ার ভাঁটার আজকের পর্ব!

পরিচালক অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতবর্ষের মন অনেক বড় এবং এখানকার মানুষের ভাবনা এত সংকীর্ণ হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের সিনেমা এখন অনেক উন্নত হচ্ছে এবং দুই বাংলার শিল্পীরা মিলেমিশে কাজ করলে বাংলা সিনেমার বাজার আরও অনেক বেশি বড় হবে। তিনি চান শিল্পীরা সবসময় নিজের যোগ্য সম্মান পান এবং দুই দেশের দর্শকরাই যেন মুক্ত মনে ভালো সিনেমা উপভোগ করতে পারেন। সবশেষে সমস্ত রাজনৈতিক বিতর্ককে পাশে সরিয়ে রেখে, আগামী ১০ই জুলাই প্রেক্ষাগৃহে এসে দর্শকদের তাঁর নতুন ছবি ‘আজ অর্ধাঙ্গিনী’ দেখার জন্য তিনি আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।

Back to top button