হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বন্দী উজি! নিজের হাতে বোনের ক’বর খুঁড়লো দিদি! ঘরের বাইরে টাইম বো’ম ফিট করলো নিশা-ভানু! দুর্ধর্ষ জোয়ার ভাঁটার আজকের পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত ধারাবাহিক হলো ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta)। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, উজি তার টিমকে সাথে নিয়ে ফেক সার্টিফিকেট তৈরির চক্রটিকে খুঁজে বের করার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে। একই সাথে তার সন্দেহ গিয়ে পড়েছে সায়ন্তনের ওপর, যার কারণে সে সায়ন্তনের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছে। কিন্তু উজি এখনো টের পায়নি যে, পর্দার আড়ালে সায়ন্তন এবং দুর্জয় ঘোষাল হাত মিলিয়ে তার চরম ক্ষতি করার ছক কষে ফেলেছে। তাদের নিখুঁত প্ল্যান অনুযায়ী, উজি যখনই ডাক্তারের কাছে যাবে, ঠিক সেই সুযোগেই তাকে কিডন্যাপ করা হবে আর সেখান থেকেই শুরু হবে আসল খেলা।
তবে গল্পের মোড় ঘুরে যায় আজকের পর্বে, যেখানে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিরাট চমক। সায়ন্তন কোনো বাইরের লোক দিয়ে নয়, বরং নিজের লোক দিয়েই উজিকে সফলভাবে কিডন্যাপ করিয়ে নেয়। অন্যদিকে নিশার অনলাইন স্ক্যামের খবর পেয়ে উজি যখন সেখানে পৌঁছায়, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। অতীতে উজি যখন সায়ন্তনের ব্যাগে রেকর্ডিং ডিভাইস রাখার চেষ্টা করেছিল, তখন ফোনের একটি শব্দে সায়ন্তন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজ উজির ফোনে তেমন কোনো শব্দই হয়নি, যার ফলে সায়ন্তন উজির অলক্ষ্যেই নিজের সব চাল চেলে দেয়।
এই আকস্মিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চতুর সায়ন্তন তার বিরুদ্ধে থাকা আগের সমস্ত প্রমাণ রাতারাতি গুছিয়ে এবং গায়েব করে ফেলে। উজি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সায়ন্তন তাকে নিজের পাতা মরণফাঁদে সফলভাবে আটকে ফেলে। ফলে উজির সমস্ত সততা এবং সাহসিকতা সত্ত্বেও সায়ন্তনের এই অতর্কিত চালের সামনে তাকে আপাতত পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে।
ধারাবাহিকের আগামী পর্বের আগাম ঝলকে দেখা যাচ্ছে এক হাড়হিম করা দৃশ্য। উজিকে একটি অন্ধকার ঘরের ভেতর চেয়ারে হাত-পা শক্ত করে বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার মুখও কাপড়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে যাতে সে চিৎকার করে কাউকে সাহায্যের জন্য ডাকতে না পারে। উজির এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঠিক সেই ঘরের বাইরেই নিশা এবং ভানু মিলে একটি মারাত্মক টাইম বোম সেট করতে ব্যস্ত। তাদের ঠান্ডা মাথার এই নৃশংসতা দেখে এটুকু পরিষ্কার যে, পুরো পরিকল্পনাটি অনেক আগে থেকেই নিখুঁতভাবে সাজানো হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার নাম অনামিকা নয়, আমি…’, ‘আমার নামের জন্য বহু জায়গায় অসম্মানিত হয়েছি!’ ‘কাজ শেখানোর নামে মানসিক নি’র্যাতন চলত!’ ‘আমাকে নেবে না কারণ আমি সুন্দরী নই…’ টলিউডে এত বছরের অভিজ্ঞতা কেমন? বি’স্ফোরক অনামিকা সাহা!
এই রোমহর্ষক প্রোমোটি দেখার পর দর্শকদের মনে কৌতুহল এখন তুঙ্গে। কারণ এবার উজির সামনে কেবল সায়ন্তন বা নিশার মতো শক্তিশালী শত্রুরাই নয়, বরং টিকটিক করতে থাকা ‘সময়’ নিজেই এক মরণ-চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উজি কি সময় শেষ হওয়ার আগেই নিজের বুদ্ধিতে এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, নাকি শেষ মুহূর্তে অলৌকিক কোনো উপায়ে কেউ এসে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করবে এই বড় টুইস্টের উত্তর মিলবে আগামী এপিসোডগুলোতেই।

