‘দেবলীনাকে খুব মা’রধর করত, কিন্তু ও বেরিয়ে আসতে চায়নি! বলত, লোকে নিন্দে করবে…’- উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য! গায়িকাকে শারীরিক নির্যা’তনও করেছেন প্রবাহ?

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবলীনা নন্দীর উপস্থিতি মানেই হাসি, গান আর প্রাণবন্ত মুহূর্ত। কিন্তু সেই উজ্জ্বল মুখোশের আড়ালে যে ভয়ংকর মানসিক চাপ আর যন্ত্রণার পাহাড় জমে উঠেছিল, তা কেউ বুঝতে পারেনি। আত্মহত্যার চেষ্টার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই সংগীতশিল্পী। ঘটনার পর তাঁর মা মুখ খুলে জানান, বিয়ের পর থেকেই দেবলীনা ধীরে ধীরে এক নিঃসঙ্গ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিল।

দেবলিনার মায়ের কথায় উঠে এসেছে বিয়ের আগের প্রতিশ্রুতি আর বিয়ের পরের বাস্তবতার তীব্র ফারাক। গান বাজনা আর অনুষ্ঠানই ছিল দেবলিনার জীবনের মূল ভরকেন্দ্র, যা শ্বশুরবাড়ি শুরুতে মেনে নিলেও পরে সেই স্বাধীনতাই হয়ে ওঠে অশান্তির কারণ। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে মায়ের সঙ্গে যাতায়াত নিয়েও একের পর এক আপত্তি উঠতে থাকে, যা দেবলীনার মনে গভীর আঘাত দেয়।

শুধু দেবলীনা নয়, তাঁর মাকেও নিয়মিত অপমান ও কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। শিক্ষা, চেহারা এমনকি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটু মন্তব্য করা হত। তবুও একজন মা হিসেবে তিনি কখনও চাননি মেয়ের সংসার ভেঙে যাক। বারবার মেয়েকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন, কারণ দেবলীনা নিজেই ভয় পেত সমাজের চোখে খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক হিংসার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। কাজের সূত্রে বাইরে যাওয়া, দেরিতে ফেরা সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলা হত। কয়েকবার বাড়ি ছাড়তেও বাধ্য করা হয় দেবলিনাকে। তবুও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে চাননি তিনি। ইন্ডাস্ট্রির মেয়েদের নিয়ে সমাজের কুৎসিত ধারণাই তাঁকে চুপ করে সহ্য করতে বাধ্য করেছিল।

আরও পড়ুনঃ একসময় ছিল চরম অভাব! ম্যাগী সেদ্ধ, জল খেয়েই কেটেছে রাত! অনেক কষ্ট করে সফলতার শিখরে দেবলীনা নন্দী! ভুল মানুষকে ভালোবেসে ফের য’ন্ত্রণায় জর্জরিত গায়িকা!

বর্তমানে দেবলীনা বিপন্মুক্ত হলেও মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন। এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবে দেবলীনা, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সমাজের ভয় আর নীরবতার আড়ালে কত শিল্পীকে প্রতিদিন লড়াই করে বাঁচতে হয়।

Back to top button