স্টুডিও পাড়ার অন্দরের লড়াই এবার আদালতে! টলিউড সংকটে দায় এড়াতে পারে না রাজ্য! মীমাংসা হবে হাইকোর্টে! কাঠগড়ায় টেকনিশিয়ানদের দাদাগিরি!

বাংলা চলচ্চিত্র (Tollywood) জগৎ বা টলিউডের অন্দরে পরিচালক ও টেকনিশিয়ানদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত এবার পৌঁছে গেল আইনি চৌকাঠে। টলিউডের কাজের পরিবেশ এবং তৈরি হওয়া অচলাবস্থা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে আদালতের স্পষ্ট মত, রাজ্য সরকার যেন এই টালমাটাল পরিস্থিতির সমাধানের দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে। মূলত চলচ্চিত্র শিল্পের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কাজের অধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই মামলাটি রুজু করা হয়েছিল, যা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে টলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে পুরোপুরি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছেন বাংলা সিনেমা জগতের একদল প্রথম সারির পরিচালক। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং সুদেশনা রায়ের মতো বিশিষ্ট নামসহ মোট ১৩ জন পরিচালক একত্রিত হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের মূল অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে টলিউডের অন্দরে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে নানাবিধ বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পরিচালকদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু মহলের একচেটিয়া দাপট ও নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ছে সিনেমার স্বাভাবিক কাজ, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে সৃজনশীলতা এবং চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রযোজক ও পরিচালকেরা।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে টলিউডের টেকনিশিয়ানদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ (FCTWEI) এবং এর সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। টলিউডের এই সংকটের সূত্রপাত মূলত পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি বিতর্ক থেকে। রাহুল মুখোপাধ্যায়ের ওপর ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে, পরিচালকদের একাংশ তার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং টেকনিশিয়ানদের এই সংগঠনের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এরপর থেকেই পরিচালক বনাম ফেডারেশনের এই ঠান্ডা লড়াই চরম আকার ধারণ করে এবং স্টুডিও পাড়ার অন্দরের কোন্দল শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় গিয়ে পৌঁছায়।
আদালতের শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা সব পক্ষকে একসাথে বসিয়ে একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করে। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব ও পারস্পরিক বিরোধ, যেখানে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের জায়গা সীমিত। রাজ্যের এই জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত স্পষ্ট জানায় যে, টলিউডের মতো একটি বড় ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক কাজকর্ম সচল রাখার বিষয়টিকে সরকার এভাবে পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারে না।
আরও পড়ুনঃ ৯৭ বছর বয়সে যৌ’ন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ! জীবনীশক্তির রহস্য নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি! কি বলেছিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেত্রী?
দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে কলকাতা হাইকোর্ট জানায় যে, মামলাটিতে দু’পক্ষের তরফেই প্রচুর অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রয়েছে এবং এর মধ্যে অনেক বিতর্কিত তথ্য জড়িয়ে থাকায় এই মুহূর্তে আদালতের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে আপাতত মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হলেও, আইন অনুযায়ী আগামী দিনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ কিন্তু পরিচালকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। এখন দেখার, আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর স্টুডিও পাড়ার সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, ফেডারেশন তাদের অবস্থান নরম করে কি না এবং টলিউডের কাজের পরিবেশ আবার কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

