৯৭ বছর বয়সে যৌ’ন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ! জীবনীশক্তির রহস্য নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি! কি বলেছিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেত্রী?

ভারতীয় বিনোদন জগতের এক কিংবদন্তি অভিনেত্রী জীবনের শেষ বয়সেও নিজের স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্য আলোচনায় ছিলেন। শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা এই শিল্পী শুধু পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও নিজের সাহসী মতামতের জন্য পরিচিত ছিলেন। ১০২ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীকে বিদায় জানালেও, তাঁর নানা বক্তব্য এখনও মানুষের মনে জায়গা করে রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ৯৭ বছর বয়সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এত বয়সেও কীভাবে তিনি এত প্রাণবন্ত এবং কর্মক্ষম থাকেন। উত্তরে তিনি বিন্দুমাত্র সংকোচ না করে জানিয়েছিলেন, তাঁর জীবনের শক্তির উৎস হল হাস্যরস এবং ভালোবাসা। পাশাপাশি তিনি এও বলেছিলেন যে, বয়স বাড়লেও মানুষের আবেগ ও অনুভূতির গুরুত্ব কমে না। তাঁর এই খোলামেলা মন্তব্য সেই সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ছোটবেলা থেকেই নাচ ও অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তাঁর নৃত্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ দেন। সেখানেই এক তরুণ বিজ্ঞানীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি দুজনেরই সমান টান ছিল, আর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে পরিণত হয় সম্পর্কে। পরিবারের আপত্তি থাকলেও তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে একসঙ্গে জীবন কাটানোর পথ বেছে নেন।
সিনেমার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রায় ১৪ বছর মঞ্চে কাজ করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনেও সমান সাফল্য পেয়েছেন। কয়েক দশক ধরে অভিনয় জগতে সক্রিয় থেকে তিনি এমন এক জায়গা তৈরি করেছিলেন, যা খুব কম শিল্পীর ভাগ্যে জোটে। তাঁর কাজ শুধু দেশে নয়, বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ উজি-নিশার ভালোবাসায় চিরকালের মতো ফাটল! এক লহমায় ভাঙল দুই বোনের সম্পর্ক! গ্রেফতার হতেই প্রতিশোধের আগুন জ্ব’লে উঠলো নিশার বুকে!
ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পদ্মশ্রী, কালিদাস সম্মান, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এবং পদ্মবিভূষণের মতো একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত হন। আর এই কিংবদন্তি শিল্পী ছিলেন ভারতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী জোহরা সেহগল। তাঁর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব, অভিনয় দক্ষতা এবং সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস আজও তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।


