‘ওর তো নিজের জাতের ঠিক নেই…একটা কানের নিচে দিতে হয়!’ কবীর সুমনের বক্তব্যে ক্ষেপলেন দর্শক! দেশদ্রোহী গান আর পাল্টিবাজ খাওয়া মন্তব্যে বিস্ফোরক নেটিজেনরা!

এরকমও যে একটা দিন দেখতে হবে ভারতীয়দের সেটা কেউই কল্পনা করেনি। কাশ্মীরের পহেলগাঁও ঘটনাকে ঘিরে গত কয়েকদিন আগে ভারতের সেনার পক্ষ থেকে পাক জঙ্গি ঘাঁটি গুলোর উপর আক্রমণ করা হয়েছিল। পাকিস্তান সেই ঘটনার বদলা নিতে উল্টে ভারতের উপর আক্রমণ চালাতে আসে, কিন্তু ভারতীয় সেনারা দেশের মাটি পাক জঙ্গিদের এতোটুকু স্পর্শ করতে দেয়নি। আকাশ পথেই গুড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের সমস্ত সেনা জঙ্গিদের।
এই নিয়ে মোটামুটি বেশ কিছুদিন ধরে দেশ উত্তাল। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা গুলি সবসময় পাহারায় রয়েছে আমাদের সেনাদের। যখন তখন যা কিছু ঘটতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে সব সময়। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেলিব্রিটিরা নানান মতামত জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি কবীর সুমনের মন্তব্য ঘিরে বিরাট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই যখন সেনার বীরত্বের প্রশংসায় মেতে, তখন কবীর সুমনের কণ্ঠে ভেসে এল এক ‘অবাধ্য’ সুর। গানে, লেখায় সবসময় তিনি বলেছেন শান্তির কথা। তাঁর দাবি— দেশের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও, প্রকৃতির উপর ঘটে চলা নির্মম অত্যাচার নিয়ে কেউ কথা বলেন না। পুড়ে যায় বন, গাছগাছালি, প্রাণ হারায় অসংখ্য নিরীহ পাখি, পোকামাকড়। এই যুদ্ধের ছায়ায় যে প্রকৃতি কাঁদছে, তা যেন বলার লোক নেই। সেই অপূর্ণ কথাই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন তিনি।
“দেশভাগের সময় কেউ আমার মত নেয়নি, দেশপ্রেম আমার কাছে একটা বুজরুকি। যেখানে মানবপ্রেম নেই, পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা নেই, সেখানে দেশপ্রেম দিয়ে কী হবে?” তিনি বলেন, এই যুদ্ধ, এই গোলাগুলি, এসব বন্ধ হওয়া দরকার। তাঁর মতে, “একটি গানের চেয়ে শক্তিশালী কিছুই নেই”— সেখানেই বারবার শান্তির ডাক দিয়েছেন তিনি। এই পোস্ট সামনে আসতেই তা ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।
সরকার জানিয়েছে— পাকিস্তান একসঙ্গে ভারতের ১৫টি শহরে হামলার ছক করেছিল! লক্ষ্য ছিল শ্রীনগর, অমৃতসর, পাঠানকোট, জলন্ধর, চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা, অবন্তীপোরা, জম্মু, ভাটিন্ডা, কাপুরথালা, আদমপুর, ভুজ সহ একাধিক সেনা ঘাঁটি। তবে ভারতীয় সেনা সেই সব হামলার ছক সফলভাবে রুখে দিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে এখন গোটা দেশে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে গর্ব, কিন্তু কবীর সুমনের মত এক শিল্পীর অবস্থান— এই উত্তেজনার মুহূর্তে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির দরজা খুলে দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। অনেকেই কবি সুমনকে বুঝলেও বেশিরভাগ নিজে জান রাই তাকে সমালোচনা এবং কটাক্ষ করেছে।
আরও পড়ুনঃ দেশের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যান ফলোয়িং? ভারতের ওপর বারবার হানা দিচ্ছি পাক জঙ্গিরা! তবু কেন মৌন বাংলার বিনোদন জগতের মুসলিম তারকরা? প্রশ্ন তুলছেন ভারতীয় জনগণ!
কেউ লিখেছেন, ‘যে নিজের জাত ঠিক রাখতে পারেনি সে আবার বড় বড় কথা বলে। ছিল সনাতন, হয়েছে মুসলমান। নামের আগে আবার কবির। সত্যি কথা বলতে হিন্দু হোক বা মুসলিম এই ভদ্রলোক দেশের পক্ষে কোভিড।’ কেউ বলেন, ‘এইসব লোক হচ্ছে দেশের জঞ্জাল এদেরকে পরিষ্কার করে দেওয়া উচিত দেশ থেকে।’ আবার একজন বলেছেন, ‘ওর শুধু বাড়ি প্রেম আর বউ প্রেম আছে তাই দেশ প্রেম সম্বন্ধে কোন ধারণা নেই।’ একজনের দাবি, ‘উনি একজন অনেক বড়মাপের দেশদ্রোহী। সেক্যুলারিজম এর আড়ালে স্বরূপটা লুকিয়ে রেখেছেন!’

