‘দায় আমার নয়, এসব তথ্য যে ছেপেছে…’— লাভলি মৈত্রর ‘ডিগ্রি ধাঁধা’ ঘিরে তোলপাড়! সরকারি নথিতে তিন জায়গায় তিনটে কলেজের নাম, অথচ ডিগ্রি একটাই! শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, নিশানায় অভিনেত্রী!

শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘিরে এবার বিতর্কের মুখে তৃণমূল বিধায়ক তথা টলিউড অভিনেত্রী ‘লাভলি (অরুন্ধুতি) মৈত্র’ (Lovely Maitra)। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ‘সুকান্ত মজুমদা’র (Sukanta Majumdar) সমাজ মাধ্যমে দাবি করেন, লাভলির শিক্ষাগত তথ্য ঘিরে একাধিক ‘অসঙ্গতি’ রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি ও দলীয় নথিতে তিনটি আলাদা কলেজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘বিএ পাশ’ অপরিবর্তিত রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ফের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
সুকান্তর অভিযোগ অনুযায়ী, লাভলি ২০২০ সালে ‘নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে বিএ পাশ করেছেন বলে সরকারি কাগজে উল্লেখ রয়েছে। অথচ তাঁর দলীয় প্রচারপত্রে লেখা ‘সেন্ট পল্স কলেজ’ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের কথা। আরও এক ধাপ এগিয়ে বিধানসভার পরিচিতি পুস্তিকায় কলেজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গোয়েঙ্কা কলেজ’, যেখানে ইতিহাস বিভাগই নেই! বিধানসভার ওয়েবসাইটে আবার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণ ফাঁকা।
এই বিতর্কিত ‘ডিগ্রি ধাঁধা’ তুলে ধরে সরকারের শিক্ষানীতিকেও নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অভিযোগের জবাবে লাভলি সরাসরি আক্রমণ করেন সুকান্তকে। ‘হাফপ্যান্ট মন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি কোথা থেকে কী পড়েছি তা আমার জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রেই পরিষ্কার লেখা রয়েছে— নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমার ডিগ্রি।” তবে দলের প্রচারপুস্তিকা বা বিধানসভার বইয়ে যেসব ভুল তথ্য ছাপা হয়েছে, তার দায় নিজের কাঁধে নিতে নারাজ অভিনেত্রী-বিধায়ক।
তাঁর দাবি, “সেসব তথ্য কে ছেপেছে, কীভাবে গেছে, তা আমার জানা নেই। দায়ও আমার নয়।” তবে লাভলি নিজেই স্বীকার করেছেন, একসময় সেন্ট পল্স কলেজে তিনি পড়তেন। কিন্তু খুব অল্প বয়সে পেশাদার অভিনয়ে যুক্ত হয়ে পড়াশোনায় ফাঁক পড়ে যায়। সেই কারণে কলেজ তাঁকে নাম বাদ দিতে বলে, এবং তিনি আর সেখানকার ছাত্রী থাকেন না। অর্থাৎ, তিনি সেই কলেজে পড়লেও, ডিগ্রি পাননি— যা প্রমাণ করে, প্রচারপত্রে লেখা তথ্য ‘অসম্পূর্ণ’।
আরও পড়ুনঃ ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসছে নতুন কমলিনী! শুরু হচ্ছে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়!
গোয়েঙ্কা কলেজের প্রসঙ্গে লাভলি পুরো দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনওদিন ওই কলেজে পড়িনি। সেখানে ইতিহাস পড়ানো হয় না— এটা আমারও জানা। হয়তো টাইপের ভুল হয়েছে, বা কোনওভাবে ভুল তথ্য গিয়েছে।” সব মিলিয়ে, তৃণমূল বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। যদিও লাভলি পুরো বিষয়টিকে ‘ছাপার ভুল’ বলে খারিজ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি সম্পর্কে এমন অসংলগ্ন তথ্য কি নিছক কাকতালীয়?

