সন্তানের মৃ’ত্যুর খবর পেয়েও চালিয়ে গিয়েছেন শুটিং! বুক ভরা য’ন্ত্রণা বুঝতে দেননি কাউকে! অবশেষে মুখ খুললেন বিশ্বনাথ বসু!

বাংলার পর্দায় যাঁর স্বতঃস্ফূর্ত সংলাপ আর হাসিঠাট্টা মুহূর্তে মন ভালো করে দেয়—সেই ‘বিশ্বনাথ বসু’র (Biswanath Basu) জীবনে একটি ক্ষত চিরকাল রয়ে গিয়েছে, যে ক্ষতের দাগ তাঁকে নিঃশব্দেই তাড়িয়ে বেড়ায়। মধ্যবিত্ত বাড়ির শান্ত-সজ্জন ছেলেটি স্টেজ থেকে টেলিভিশনের আলোয় উঠে এলেও, হৃদয়ের গভীরে আছে এক অপূরণীয় শূন্যতা—প্রথম সন্তানের অসময়ের মৃত্যু!

ছেলেবেলা কেটেছে কলকাতার ব্যস্ত গলিপথে, যেখানে সন্ধে হলে মাঠের খেলাধুলা ছেড়ে পড়ার টেবিলে বসতে হতো। পড়াশোনার পাশে নাটকের নেশা ধীরে ধীরে পোক্ত হয়, আর সেই নাট্যমঞ্চেই প্রথম দর্শক-স্বীকৃতি পান তিনি। বড়দের চোখে ‘নিরাপদ চাকরি’র সন্ধান ছেড়ে শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধটা একা লড়েছেন বিশ্বনাথ, সংসারের হিসেব আর স্বপ্নের মঞ্চ— দুটোই সামলাতে হয়েছে একই সঙ্গে।

তবে জীবনের সবচেয়ে দুঃসময় নেমে এসেছিল ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় শুটিং চলাকালীন। আঠারো দিনের ক্যালেন্ডার মেনে, ভোর থেকে রাত ক্যামেরার সামনে ব্যস্ত তিনি। সে সময়েই ফোনে এল মর্মান্তিক খবর—গর্ভে থাকতেই চিরবিদায় নিয়েছে তাঁর প্রথম সন্তান। স্ত্রী দেবিকা দেশে ভেঙে পড়েছেন, অথচ মাইলের পর মাইল দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অভিনেতা তখন কাজের মাঝখানে। প্রোডাকশন, ভিসা, ফ্লাইট সব বাধা এক পাল্লায়, অন্য পাল্লায় বুকচেরা শোক।

শেষমেশ পেশার প্রতি দায়বদ্ধতার কাছে মাথা নত করে শুটিং চালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। সে কয়েকটা দিন ছিল ভেতরের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অভিনয় করার কঠিন পরীক্ষা। সহ-অভিনেত্রী ইন্দ্রানী দত্ত পাশে এসে শক্তি জুগিয়েছিলেন, কলাকুশলীরাও নিঃশব্দে কাঁধে হাত রেখেছিলেন। তবু প্রতিবার ক্যামেরা ‘কাট’ বলার পর অন্ধকার কোণে গিয়ে চোখের জল লুকোতেন বিশ্বনাথ। ফিরে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলেও, জানা ছিল— এই শূন্যতা কোনও শব্দে ভরবে না।

আরও পড়ুনঃ ফাঁ’স মোহনার কারসাজি! ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে প্রমাণসহ রায় বাড়িতে হাজির শুভ! ফাঁ’স আজকের দুর্ধর্ষ পর্ব

আজ, দর্শক যখন তাঁর রসিকতায় হেসে গড়িয়ে পড়ে, তিনি মনে মনে সেই না-ফোটা কণ্ঠস্বরটাকেই শ্রদ্ধা জানান। সন্তানের আকস্মিক চলে যাওয়া তাঁকে শিখিয়েছে দায়ভার কীভাবে পাল্টে দেয় জীবনের মানে, পারফরমার আর মানুষ—দুই সত্তার মাঝের সুঁতো আজও আগলে রেখেছেন তিনি। হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই বিষণ্নতার গল্প জানিয়ে বিশ্বনাথ যেন মনে করিয়ে দিলেন—হাঁসি অনেক সময় চোখের নোনা জলের রঙও ঢেকে দেয়।

Back to top button