‘মৌসুমী দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করছিল…সিন শুরু হতেই সবটা বদলে গেলো!’ ‘হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় পড়ে গেলো মৌসুমী!’ ‘এরকম হবে ভাবতেই পারিনি!’ হয় কে নয় করার ক্ষমতা রাখে মৌসুমী চ্যাটার্জি! অভিনেত্রীকে নিয়ে কি বললেন পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জি!

বাংলা সিনেমা জগতের (Tollywood) অন্যতম দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জি (Moushumi Chatterjee) এবং পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জি (Biresh Chatterjee)। পর্দায় নিখুঁত আবেগ ফুটিয়ে তুলতে মৌসুমী চ্যাটার্জির জুড়ি মেলা ভার, আর অভিনেতাদের থেকে সেরা কাজটা বের করে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জির দক্ষতা সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এই দুই গুণী মানুষের একটি পুরনো কাজের পেছনের গল্প উঠে এসেছে, যা সিনেমার দর্শকদের নতুন করে মুগ্ধ করেছে। পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন তাঁদের একটি কালজয়ী ছবির শুটিংয়ের চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা।

একটি সাম্প্রতিক ভিডিও সাক্ষাৎকারে পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জি তাঁর পরিচালিত জনপ্রিয় ছবি ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’-এর শুটিংয়ের একটি বিশেষ দৃশ্যের স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, ছবিতে একটি অত্যন্ত গম্ভীর এবং আবেগঘন দৃশ্য ধারণ করার কথা ছিল। সিনেমার পর্দার সেই সিরিয়াস মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করার আগে শুটিং ফ্লোরে আসলে কী ঘটেছিল, সেই না-বলা গল্পই পরিচালক এই ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন।

পরিচালকের কথা অনুযায়ী, সেই বিশেষ সিকুয়েন্সটি ছিল অভিনেতা তাপস পালকে কেন্দ্র করে। দৃশ্যটিতে দেখানো হচ্ছিল, তাপস পাল দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকবেন এবং মৌসুমী চ্যাটার্জির বাবার মৃত্যুসংবাদ নিয়ে আসবেন। এই অত্যন্ত দুঃখের খবরটি শোনার পর ভেতর থেকে অভিনেত্রী অপর্ণা সেন আস্তে আস্তে হেঁটে এসে মৌসুমীর পাশে দাঁড়াবেন। আর বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মৌসুমী চ্যাটার্জি হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে নিজের দিদিরূপী অপর্ণা সেনকে জড়িয়ে ধরবেন এটাই ছিল মূল দৃশ্য।

শুটিংয়ের শুরুর দিকে অবশ্য পরিবেশ কিছুটা হালকা ছিল। বীরেশ চ্যাটার্জি জানান, এত সিরিয়াস একটা দৃশ্য হওয়া সত্ত্বেও মৌসুমী চ্যাটার্জি প্রথমে বেশ হাসিঠাট্টা বা মজার মেজাজেই ছিলেন। তখন পরিচালক তাঁকে ডেকে দৃশ্যটির গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন এবং জানতে চান তিনি কীভাবে শটটি দেবেন। জবাবে মৌসুমী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিচালককে বলেছিলেন, শট শুরু হওয়ার আগে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় সেকেন্ডের মধ্যে তিনি কোনো সাহায্য ছাড়াই চোখে জল এনে দেখাতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ সুখ-দুঃখের কুড়ি বছর! র’ক্তের সম্পর্কের কাছে হার মানাল মনের টান! এক আকাশের নিচে’-র স্মৃতি মনে পড়তেই চোখে জল! আজও একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রয়েছেন দেবলীনা-চৈতি-কমলিকা!

যেমন কথা, তেমন কাজ। পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জি জানান, যখন ফাইনাল টেক নেওয়া হলো, তখন মৌসুমী চ্যাটার্জি অভাবনীয় এক অভিনয় উপহার দিলেন। কোনো রকম কৃত্রিম গ্লিসারিন ব্যবহার না করেই তিনি পর্দায় এমনভাবে হাউহাউ করে কেঁদে উঠলেন যে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে যান। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বিছানায় ভেঙে পড়েন এবং দিদি অপর্ণা সেনকে জড়িয়ে ধরেন। কোনো গ্লিসারিন ছাড়া মৌসুমীর এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং জীবন্ত অভিনয় আজও পরিচালকের মনে দাগ কেটে রয়েছে।

Back to top button