সুখ-দুঃখের কুড়ি বছর! র’ক্তের সম্পর্কের কাছে হার মানাল মনের টান! এক আকাশের নিচে’-র স্মৃতি মনে পড়তেই চোখে জল! আজও একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রয়েছেন দেবলীনা-চৈতি-কমলিকা!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) ইতিহাসে ‘এক আকাশের নিচে’ ধারাবাহিকটি এক অনন্য মাইলফলক। বহু বছর আগে এই জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালটি শেষ হয়ে গেলেও, দর্শকদের মনে এর স্মৃতি আজও টাটকা। তবে শুধু দর্শকদের মনেই নয়, এই ধারাবাহিকের মূল তিন অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল, কমলিকা ব্যানার্জি এবং দেবলীনা দত্তর বাস্তব জীবনেও এই সিরিয়ালটি এক গভীর প্রভাব ফেলে গেছে। সম্প্রতি একটি আড্ডায় এসে নিজেদের সেই পুরনো দিনের কথা মনে করে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তাঁরা।

পর্দার সেই দিনগুলো পেরিয়ে আজ দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অভিনেত্রীরা জানান, ৫-৬ বছর ধরে এই ধারাবাহিকটির শুটিং চলেছিল। কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার পর গত দুই দশকে তাঁদের একে অপরের প্রতি টান বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও গভীর হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁদের এই সম্পর্কটি কেবল সাধারণ বন্ধুত্বে আটকে নেই, এটি এখন একটি খাঁটি পরিবারে রূপ নিয়েছে।

জীবনের নানারকম চড়াই-উতরাই, সুখ-দুঃখের দিনে তাঁরা সবসময় একে অপরের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই চুজেন ফ্যামিলি বা নিজেদের বেছে নেওয়া পরিবার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁরা আবেগের সাথে বলেন, “আমাদের তিনজনের তিনটা আলাদা পদবী কিন্তু আমরা সেই এক আকাশের নিচের পর থেকে দাসগুপ্ত পরিবার হিসেবে থেকে গেছি।” রক্তের সম্পর্ক না হলেও, ধারাবাহিকের সেই ‘দাসগুপ্ত’ পরিচয়টিকে তাঁরা আজও নিজেদের মনের মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।

তাঁদের মতে, এই সম্পর্কটি রক্তের সম্পর্কের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পেশাল। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান, “আমরা বেছে নিয়েছি পরিবারটা।” যেখানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, আছে শুধু একে অপরের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা আর ভরসা। একে অপরের যেকোনো নতুন কাজে বা সাফল্যে তাঁরা আজও ঠিক ততটাই আনন্দ পান, যতটা একজন নিজের পরিবারের মানুষের জন্য পেয়ে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ ‘রাইমা হাঙ্গরের মতো খায়,’ ‘বিদেশি নয় একেবারে দেশি বাংলা…’ ‘বিড়াল ডিঙতে পারবে না এমন ভাত খায়…’ রাইমার ফিটনেস এর আসল রহস্য কি? রাক্ষসের মত খান অভিনেত্রী? কি বললেন বন্ধু পরমব্রত!

আসলে মেগা সিরিয়ালের ভিড়ে আজকাল যেখানে অনেক সম্পর্কই খুব দ্রুত হারিয়ে যায়, সেখানে এই তিন অভিনেত্রীর এমন নিখাদ ভালোবাসার গল্প এক ব্যতিক্রমী নজির গড়ে তুলেছে। কুড়ি বছর পরেও তাঁদের এই অনস্ক্রিন ও অফস্ক্রিন কেমিস্ট্রি প্রমাণ করে দিল যে, ভালো সিরিয়াল শুধু বিনোদন দেয় না, তা মানুষকে আজীবনের মতো এক সুতোতেও বেঁধে দিতে পারে।

Back to top button