‘আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল দিদি আর বোনের মতো…’ শেষ সুরে নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র! ভেঙে পড়লেন ঊষা উত্থুপ! আশা ভোঁসলের বিদায়ে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ!

ভারতীয় সঙ্গীতের আকাশে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে বিদায় নিয়েছেন আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। তাঁর প্রয়াণ যেন শুধু এক কিংবদন্তি শিল্পীর অবসান নয়, বরং এক স্বর্ণালী যুগের সমাপ্তি। এর আগে Lata Mangeshkar-এর বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, আশার চলে যাওয়া সেই শূন্যতাকে আরও গভীর করল। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কণ্ঠে ভেসে উঠেছে অসংখ্য অমর গান, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছে। তাঁর এই বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সারা দেশজুড়ে।

এই খবরে ভেঙে পড়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহশিল্পী Usha Uthup। তিনি জানিয়েছেন, এই খবর শোনার পর তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায়, আশা শুধু একজন মহান শিল্পীই ছিলেন না, বরং ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল দিদি বোনের মতো, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছিল। প্রতিদিনের জীবনে আশার উপস্থিতি অনুভব করতেন তিনি, তাই এই শূন্যতা তাঁর কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতোই। তাঁর গানের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্বও সকলের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আশা ভোঁসলে এক আলাদা আবেগের নাম। তাঁর গাওয়া অসংখ্য বাংলা গান আজও সমান জনপ্রিয়। পুজোর আড্ডা হোক বা স্মৃতির সন্ধ্যা, তাঁর গান ছাড়া যেন কিছুই সম্পূর্ণ হয় না। Rahul Dev Burman-এর সুরে তাঁর গাওয়া একাধিক বাংলা গান এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই গানগুলো শুধু সুর নয়, বরং এক সময়ের অনুভূতি, যা আজও জীবন্ত হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মাকে হারালেন সচিন টেন্ডুলকার! পরলোকে পারি দিলেন সচিনের “আই” আশা ভোঁসলে! কাছের মানুষের নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন গায়িকা!

১৯৩৩ সালে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্ম নেওয়া আশার জীবন সংগ্রামে ভরা ছিল। ছোটবেলায় বাবার মৃত্যু, সংসারের দায়িত্ব, আর দিদির ছায়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করার লড়াই— সবকিছু পেরিয়ে তিনি পৌঁছেছিলেন সাফল্যের শিখরে। ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক থেকে শুরু করে দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। প্রতিটি দশকেই তিনি নতুনভাবে ফিরে এসেছেন, নতুন সুরে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।

ভারত সরকার তাঁকে পদ্মবিভূষণ ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। গিনেস বুকেও তাঁর নাম রয়েছে সর্বাধিক গান রেকর্ড করা শিল্পীদের তালিকায়। কিন্তু এই সব সম্মানের বাইরেও তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন মানুষের হৃদয়ে। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর গান, তাঁর সুর, আর তাঁর স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর কণ্ঠের সেই জাদু কখনও হারাবে না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে উঠবে।

Back to top button