মাকে হারালেন সচিন টেন্ডুলকার! পরলোকে পারি দিলেন সচিনের “আই” আশা ভোঁসলে! কাছের মানুষের নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন গায়িকা!

ভারতের ক্রীড়া ও সঙ্গীত জগতের দুই কিংবদন্তি সচিন টেন্ডুলকার (Sachin Tendulkar) এবং আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) শুধুমাত্র নিজেদের কাজের জন্যই বিখ্যাত নন, তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত হৃদয়ছোঁয়া। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশ, আর সেই আবেগের মধ্যেই সামনে এসেছে তাঁদের বিশেষ বন্ধনের কথা। অনেকেই জানেন না, এই সম্পর্ক ছিল একেবারে মা ও ছেলের মতো, যেখানে স্নেহ, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা একসঙ্গে মিশে ছিল।

এই সম্পর্কের শিকড় খুঁজতে গেলে পৌঁছতে হয় আরও আগে, Sachin Dev Burman-এর কাছে। তাঁর নামেই রাখা হয়েছিল সচিন তেন্ডুলকরের নাম। পরবর্তীকালে সেই পরিবারেরই অংশ হয়ে ওঠেন আশা ভোঁসলে, আর সেখান থেকেই তৈরি হয় এক গভীর সংযোগ। মঙ্গেশকর পরিবারের সঙ্গে সচিনের সম্পর্ক ছিল বহু পুরনো, আর সেই সূত্রেই ধীরে ধীরে আশার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।

Asha Bhosle

সচিন তেন্ডুলকর ছোটবেলা থেকেই আশা ভোঁসলেকে ‘আই’ বলে ডাকতেন, যার অর্থ মারাঠি ভাষায় মা। এই সম্বোধন শুধু একটি শব্দ ছিল না, বরং ছিল তাঁর মনের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। আশা নিজেও একাধিকবার বলেছেন, প্রথমবার সচিনের মুখে ‘আই’ শব্দটি শুনে তিনি আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি, দেশের এত বড় এক ক্রিকেটার তাঁকে মায়ের মতো সম্মান দেবেন।

আরও পড়ুনঃ কাজ না মেলায় মুদির দোকান হয়ে উঠেছিল ভরসা! দীর্ঘ দিন পর ফের ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের হাত ধরে পর্দায় ফিরছেন খলনায়ক সুরজিৎ সেন!

মঙ্গেশকর পরিবার বরাবরই ক্রিকেটপ্রেমী ছিল, আর সেই কারণেই সচিনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে সচিন ও মঙ্গেশকর পরিবারের সদস্যদের। শুধু পরিচয়ের সম্পর্ক নয়, বরং তা ছিল এক আন্তরিক পারিবারিক বন্ধন। সেই সম্পর্কের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল বিশ্বাস, স্নেহ এবং এক অনন্য আবেগ, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।

আশা ভোঁসলের নিজের দুই ছেলে থাকলেও, তিনি বহুবার বলেছেন যে সচিনের মতো ছেলে থাকলে তিনি গর্বিত হতেন। তাঁর জীবনের নানা উত্থান পতনের মধ্যেও এই সম্পর্ক তাঁকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। আজ আশা ভোঁসলে আর নেই, কিন্তু সচিনের সঙ্গে তাঁর এই মায়ের মতো সম্পর্ক মানুষের মনে চিরকাল থেকে যাবে। এই গল্প প্রমাণ করে, রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও ভালোবাসা দিয়েই তৈরি হতে পারে সবচেয়ে গভীর বন্ধন।

Back to top button