” আমরা তিনজন একে অপরকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম”- স্বপ্নের শহরে নিজের বাড়ি! কেমন ছিল আরাত্রিকা মাইতির অভিজ্ঞতা?

বর্তমানে বাংলা বিনোদন (Entertainment) জগতের একজন জনপ্রিয় মুখ তিনি। খুব কম বয়সেই নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় তিনি মন জয় করেছেন দর্শকদের। তবে অভিনেত্রীর চলার পথ কখনও ছিল না সহজ। সহ্য করতে হয়েছে অনেক কষ্ট, পেরোতে হয়েছে অনেক বাধা। তবে কখনও হার মানেননি জি বাংলার (Zee Bangla) মিঠিঝোরা (Mithijhora) ধারাবাহিকের জনপ্রিয় নায়িকা অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity)।
ছোটপর্দায় অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতিকে চেনেনা এমন মানুষ খুব কমই আছেন। ঝাড়গ্রাম থেকে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একসময় তিনি পা রেখেছিলেন কলকাতার মাটিতে। শহরতলীতে পরিচিত বলে ছিল না কেউ। বহুবার সহ্য করেছেন রিজেকশন। কখনও তাকে শুনতে হয়েছে তিনি বাচ্চা বাচ্চা দেখতে, কখনও আবার কেউ বলেছেন তিনি বড্ড রোগা। তবে এতবার ব্যর্থতা সহ্য করেও হার মানেননি মাত্র ১৯ বছর বয়সী যোগমায়া কলেজের সাইকোলজি অনার্সের স্নাতক স্তরের ছাত্রী আরাত্রিকা।

একসময় জি বাংলার বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক করুণাময়ী রাসমণিতে একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদিও দৃশ্যটিতে ছিল না কোন সংলাপ। তবে মন খারাপ করে বসে থাকেননি আরাত্রিকা। মায়ের হাত ধরেই চালিয়ে গেছেন লড়াই। একসময় সান বাংলার অগ্নিশিখা ধারাবাহিকে মুখ ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। তারপরই সেখান থেকেই জি বাংলার খেলনা বাড়ি ধারাবাহিকে অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি।
অবশেষে কিনলেন স্বপ্নের বাড়ি, কেমন ছিল অভিজ্ঞতা জানালেন আরাত্রিকা মাইতি
বর্তমানে জি বাংলার মিঠিঝোরা ধারাবাহিকে রাইপূর্ণার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরাত্রিকা। সম্প্রতি কিনেছেন নিজের বাড়ি। সংবাদ মাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী নিজেই। আরাত্রিকা জানিয়েছেন ‘আমি ভীষণ খুশি। ২০২২ সালে নিজের গাড়ি কিনেছিলাম সেটাও স্পেশাল ছিল। তবে নিজের একটা বাড়ি হবে, মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে আর ভাড়া বাড়িতে থাকতে হবে না সেটা এখনই হবে আমি ভাবিনি। সবটাই ওপরওয়ালার ইচ্ছে। সবাই হয়েছে দর্শকদের আশীর্বাদ এবং গুরুজনদের আশীর্বাদে। যেদিন আমি রেজিস্ট্রি করাতে গিয়েছিলাম। কাগজে সই করছি আমার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। বাবা হঠাৎ বললেন সবই কি আমার মেয়ে সই করবে আমরা করতে পারব না? তারপর আমরা তিনজনে পর পর সই করি। আমি তখন বুঝতে পাচ্ছিলাম ওদের মনে কি চলছে।’
আরো পড়ুন: জেলে যাচ্ছে মালা! দেবুদার সঙ্গে হাত মিলিয়ে মালার পর্দা ফাঁ’স করল জ্যাস!
অভিনেত্রী এও বলেন ‘প্রথম যেদিন এসেছিলাম তিনজনে একে অপরকে জড়িয়ে কান্না হাসি একটা অদ্ভুত রকমের জিনিস হয়েছে যেটা বলে বোঝাতে পারব না। আমি ইউনিভার্সের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। আমি কাজ করতে পারি যেন রোজ বেশ এটাই চাই। আমি অনেক কিছু পেয়ে গেছি।’ অভিনেত্রীর কথায় ভেসে উঠেছে তার মনের আনন্দ।

সুমনের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন আরাত্রিকা, কিন্তু কেন?
অভিনেত্রীর কথায় রাইয়ের রোল করতে করতে তিনি এতটাই তার মধ্যে ঢুকে গেছেন যে সুমন দের সঙ্গেও তিনি মাঝে মধ্যে রেগে গিয়ে রাইয়ের মতো আচরণ করেন। সেই নিয়ে নাকি নায়কের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই বেঁধে যায় ঝগড়া। পাশাপাশি অভিনেত্রীর মতে ‘আমি কাউকেই ঘৃণা করিনা। অনেক চেষ্টা করেছি করার তবে হয়না। সেই মানুষটা এসে কথা বললে আমিও কথা বলি। আমি নিজের আশেপাশে নেগেটিভ কিছু আসতে দিইনা সবসময় পজেটিভ থাকে। তবে বড্ড জেদি। দাঁতে দাঁত চেপে আমি লড়তে জানি।’ অভিনেত্রীর কথায় তার আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি ফুটে উঠেছে অব্যক্ত আনন্দ। অবশেষে হল স্বপ্নপূরণ। বলাই বাহুল্য এই বছরটি অভিনেত্রীর কাছে চিরস্মরণীয়।
View this post on Instagram

