২৪ বছর আগের স্মৃতি মেখে জন্মদিনের শুভেচ্ছা! ‘অনন্যা চট্টোপাধ্যায় মানেই আমার আর এক মা, আমায় কত খাইয়ে দিয়েছে…’- অভিনেত্রীকে নিয়ে আবেগে ভাসলেন ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায়!

সময় কেটে গিয়েছে অনেকটা, তবু স্মৃতির অ্যালবাম খুললেই সব যেন ঠিক আগের দিনের মতোই টাটকা। আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দুজন। তখন একজন ছিলেন স্কুলপড়ুয়া, আর অন্যজন পর্দার অভিজ্ঞ অভিনেত্রী। সেই সময়ের কথা মনে পড়লেই আবেগে ভেসে যাচ্ছেন তিনি। ১৬ জানুয়ারি অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে পুরনো দিনের কত কথা যে মনে পড়ে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেটে অনন্যাদিই ছিলেন তাঁর ভরসা, তাঁর অভিভাবক, এক কথায় আর এক মা।

তখন ছোট বয়স, কাজের চাপ থাকলেও শুটিং সেট ছিল আনন্দে ভরা। একসঙ্গে অনেক দৃশ্য থাকত, আর প্রতিটি দৃশ্যের আগে অনন্যাদি নিজে ডেকে নিয়ে রিহার্সাল করাতেন। কোথায় কীভাবে দাঁড়াতে হবে, কোন সংলাপে কী অনুভূতি দিতে হবে, সবটাই ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিতেন তিনি। সেটে ডাকতেন মা বলেই। সেই সম্বোধন আজও বদলায়নি। এখন দেখা হলে এখনও একই আদর, একই মমতা। তবে আফসোস থেকে গেছে, তার পরে আর সেভাবে একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। মন থেকে ইচ্ছে আজও আবার একসঙ্গে কাজ করার।

সেই সময়টা ছিল একেবারেই আলাদা। আজকের মতো ক্যাফে কালচার ছিল না, হাতে হাতে মোবাইলও নয়। শুটিং শেষ হলে সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ত পিকনিকে। হাসি, গল্প আর খুনসুটিতে ভরে উঠত দিনগুলো। একবারের একটা পিকনিকের কথা আজও মনে গেঁথে আছে। সেদিন তাঁর নিজের মা ও শুটিংয়ে সঙ্গে গিয়েছিলেন। কোনও এক মুহূর্তে দূর থেকে মা বলে ডাকতেই একসঙ্গে সাড়া দিয়েছিলেন অনন্যাদি আর তাঁর মা। সেই দৃশ্য আজও চোখে ভাসে, ভুলবার নয়।

অনন্যাদির যত্ন ছিল নিখাদ মায়ের মতোই। দিদির বাড়ি থেকে যা খাবার আসত, তার একটা অংশ আলাদা করে থাকত তাঁর জন্য। সেটে নিজে হাতে খাইয়ে দিতেন অনেক সময়। কোনও ভুল করলে বকাঝকা নয়, বরং আদর করে শিখিয়ে দিতেন। ছোট ছোট সেই মুহূর্তগুলোই আজ এত বড় স্মৃতির ভাণ্ডার হয়ে উঠেছে। একেকটা কথা মনে পড়লে চোখ ভিজে যায়, মনটা কেমন নরম হয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ ‘এসব আর জিজ্ঞাসা করো না, ভালো লাগছে না…এই নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না!’ এতদিনেও কি তবে ফোন করেননি স্বামী প্রবাহ? অতীত জীবন ভুলে নিজেকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার পথে দেবলীনা! কি বললেন গায়িকা?

২৪ বছর পরেও সেই ভালবাসা অটুট। আজও তিনি চান, অনন্যাদির সঙ্গে আবার কাজ করতে, মন থেকে। তাঁর কাছে অনন্যা চট্টোপাধ্যায় শুধু সহ অভিনেত্রী নন, তিনি একজন মা, একজন আশ্রয়। জন্মদিনে একটাই প্রার্থনা, এই আর এক মা যেন সবসময় ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন। সময় বদলালেও সম্পর্কের উষ্ণতা যেন কোনও দিন ফিকে না হয়, এই কামনাই রইল।

Back to top button