‘এসব আর জিজ্ঞাসা করো না, ভালো লাগছে না…এই নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না!’ এতদিনেও কি তবে ফোন করেননি স্বামী প্রবাহ? অতীত জীবন ভুলে নিজেকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার পথে দেবলীনা! কি বললেন গায়িকা?

জীবন মানেই লড়াই, আর সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়ে আবারও মঞ্চে ফিরলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy)। চলতি মাসের শুরুর দিকেই এক গভীর ব্যক্তিগত সংকটে দিশেহারা হয়ে আ’ত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে যমে-মানুষে টানাটানি শেষ করে তিনি এখন সুস্থ। শুধু সুস্থই নন, হাতে মাইক্রোফোন তুলে নিয়ে আবারও দর্শক মাতাতে শুরু করেছেন শিল্পী।

কিছুদিন আগেই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল দেবলীনার নাম। প্রচুর পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আ’ত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ঘনিষ্ঠ মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল তার মানসিক অবসাদের কথা। আত্মহত্যা করার আগে তার লাইভ ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন দেবলীনা। যদিও বাড়ি ফিরেই আবারো লাইভ ভিডিওতে ধরা দিয়েছিলেন। হাজার মানুষের অসংখ্যক প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন। তবুও নিজের বাড়িতেই সেই সময়টা তিনি নিজেকে গুছিয়ে নিতে এবং মানসিক ভাবে সুস্থ হতে সময় নেন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সান্নিধ্যে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেন। মনের ক্ষত যে সংগীতের মাধ্যমেই সেরে উঠতে পারে, তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন।

গতকাল দেবলীনার স্টেজ শো ছিল সেখান থেকে বেরিয়েই অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যখন দেবলীনা সুস্থ হয়ে স্টেজ পারফরম্যান্সে ফেরেন, তখন স্বভাবতই তাঁকে ঘিরে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। সাক্ষাৎকারে দেবলীনা জানান, ‘সেই সময়টা আমার জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় ছিল। প্রচণ্ড মানসিক অবসাদ এবং একাকীত্ব আমাকে ঘিরে ধরেছিল।’ সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে, মানুষ হিসেবে তিনি আবেগপ্রবণ এবং পরিস্থিতি সামলাতে না পেরেই ওই ভুল সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

আরও পড়ুনঃ হাঁটুর বয়সী মেয়ের সঙ্গে চুটিয়ে রোম্যান্স? সমুদ্র সৈকতে ক্যামেরাবন্দি শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও তাঁর প্রেমিকা! কি চলছে অভিনেতার জীবনে?

তিনি বলেন, ‘স্টেজই আমার আসল জায়গা। দর্শকদের ভালোবাসা দেখে আমি ধন্য। ডাক্তারদের ওষুধের চেয়েও দর্শকদের হাততালি এবং ভালোবাসা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করেছে। অসংখ্য মানুষের অসংখ্য পজিটিভ বার্তা পেয়েছি, নেগেটিভ খুব কম ছিল। তাই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে স্টেজে ফিরতে পেরেছি।’ বিপদের সময় তাঁর পরিবার যেভাবে তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেই জন্য তিনি অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন সবার আগে তার জীবনে মা বাবা। মা বাবা যতদিন থাকবে দেবলীনাও তাদের সাথেই থাকবেন। কিন্তু শ্বশুর বাড়ির সম্পর্কে প্রশ্ন করলে দেবলীনা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছেন বিষয়টি। দেবলীনা বলেছেন, ‘এসব নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না, আর এই কথা জিজ্ঞাসা করো না আমাকে।’ তবে কি এখনো শ্বশুর বাড়ির সাথে মনোমালিন্য দূরত্ব ঘোচেনি গায়িকার? থেকেই যাচ্ছে প্রশ্ন।

Back to top button