‘এই বছর আমাকে একা দাঁড়াতে শিখিয়েছে… বুঝিয়েছে আমি কতটা একা!’- বছরের শেষে একলা অনামিকা! উদয়ের সঙ্গে দূরত্ব? সদ্য বিবাহিত জীবনে কিসের বিবাদ?

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অনামিকা সাম্প্রতিককালে বড় পর্দায় তেমন কাজ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বরাবরই খোলামেলা। স্বামী উদয় প্রতাপ সিংহ যখন ধারাবাহিকে দারুণ কাজ করছেন, তখন অনামিকা নিজের মতো করেই এগোচ্ছেন। সম্প্রতি নতুন লুকে তাঁকে দেখা যায় এবং জানা যায়, তিনি ফুল্কি ধারাবাহিকে বিশেষ চরিত্রে ফিরছেন। কিন্তু অভিনয়ে ফেরা যতটা না আলোচনার কেন্দ্র, তার থেকেও বেশি চর্চায় রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধির লেখাগুলি।
অনামিকা জানান, এই বছর তাঁর জীবনে ছিল এক প্রকৃত রোলার কোস্টার। তবে শুধু এই বছর নয়, ছোটবেলা থেকেই উত্থান পতন তাঁর জীবনের সঙ্গী। তবুও কোনও অনুশোচনা নেই তাঁর। নিজের পথ তিনি নিজেই বেছে নিয়েছেন, সিদ্ধান্তের দায়ও নিজেই নেন। ২৯ বছর বয়সে এসে তিনি বুঝেছেন, প্রকৃত সুখ আসে সেই মানুষগুলোর কাছ থেকে যারা আপনাকে সত্যিকারে ভালোবাসে এবং কোনও স্বার্থ ছাড়াই পাশে থাকে।
তিনি আরও লেখেন, এই বছর তাকে কঠিন ও সুন্দর দু’ধরনের শিক্ষা দিয়েছে। অনামিকা উপলব্ধি করেছেন, শেষ পর্যন্ত মানুষকে নিজেকেই নিজের পাশে দাঁড়াতে হয়। তবুও মানসিক নির্ভরতা তাঁর কাছে দুর্বলতা নয়। কারণ ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, পরিবার— এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নির্ভরতা স্বাভাবিক। মানুষের জীবন অর্থ ও সাফল্যে গড়লেও আবেগের জায়গায় নির্ভরতা থেকেই যায়।
আরও পড়ুনঃ একসঙ্গে বড় হওয়া দুই বোনের! ঝারগ্রামেই ছোট থেকে বেড়ে ওঠা! শিরিন দিদিকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিলেন আরাত্রিকা!
নিজেকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনামিকা জানান, এখন তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাঁর বিশ্বাস, তাঁর আত্মা যা কিছু চায় তা পাওয়ার যোগ্য তিনি। শান্তি, সুখ আর চাপমুক্ত জীবনই তাঁর একমাত্র চাওয়া। কষ্ট এখনই শেষ হবে না, এটি তিনি জানেন; কিন্তু নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার শক্তি তাঁর মধ্যেই আছে— এবং সেই লড়াইয়ের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
শেষে অনামিকা লেখেন, মহাবিশ্ব তাঁকে বছরের পর বছর যে শিক্ষা দিয়েছে তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। পথ কঠিন হলেও সহনীয় ছিল। কারও প্রতি কোনও অভিযোগ নেই তাঁর। নিজের মতো করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, আর সেই শক্তি নিয়েই জীবনের পথে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তিনি।

