‘১২ দিন ICU-তে মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়াই, কেউ জানতেও পারেনি!’ ‘পার্টি নয়, অবসরে ঘরের কোণেই শান্তি!’ মৃ’ত্যুমুখ থেকে ফেরা! পুরনো স্মৃতি নিয়ে অকপটে আদৃত রায়!

বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেতা আদৃত রায় (Adrit Roy)। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা সব মাধ্যমেই নিজের সাবলীল অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন লাখো দর্শকের মন। সম্প্রতি স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘কুমকুম’-এ ‘ঈশান’ চরিত্রে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনার শেষ নেই। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও আদৃত বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে, অন্তর্মুখী ও মাটির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। কাজের প্রতি চরম দায়বদ্ধতা এবং অভিনয়ের নতুন নতুন আঙ্গিক অন্বেষণই তাঁকে সমসাময়িক অভিনেতাদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন ও নতুন কাজ নিয়ে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও আবেগঘন তথ্য শেয়ার করেছেন অভিনেতা, যা আগে কেউ জানত না।

জনপ্রিয়তার শিখরে থাকার সময়েই জীবনের এক কঠিনতম অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আদৃতকে, যার আভাসও পাননি তাঁর অগণিত অনুরাগী। অভিনেতা জানান, তাঁর আগের একটি মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় করার সময় কাজের প্রচণ্ড চাপ এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে শুটিং করার কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক পরিস্থিতি এতটাই বিগড়ে গিয়েছিল যে, দীর্ঘ ১২ দিন তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে তাঁর আর্টারি বা ধমনী ব্লক করে দেয়। এই মারাত্মক অসুস্থতা নিয়েও তিনি সে সময় সেটে অ্যাকশন সিকোয়েন্সের শুটিং করেছিলেন এবং যখন চিকিৎসকের কাছে যান, তখন ডাক্তারও অবাক হয়ে যান যে এই অবস্থায় তিনি হেঁটে এলেন কী করে! পুরোপুরি ফিট ও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্যই তিনি কাজের মাঝে সচেতনভাবে একটি লম্বা বিরতি নিয়েছিলেন।

কঠিন শারীরিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার পর ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের হাত ধরে আবারও ফ্লোরে ফিরেছেন অভিনেতা, তবে এবার এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ ও মেজাজে। এই ধারাবাহিকের মূল ভাবনা যেমন পুরনো ঐতিহ্যকে আগলে রাখার কথা বলে, বাস্তব জীবনেও আদৃত ঠিক ততটাই রক্ষণশীল ও আবেগপ্রবণ। অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তিনি পুরনো দিনের জিনিসপত্র এবং স্মৃতির সাথে খুব সহজেই জড়িয়ে পড়েন। আজকের দিনে মানুষ যখন অনেক বেশি কনভেনিয়েন্ট বা আধুনিক ফ্ল্যাট কালচারে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, আদৃত তখন তাঁর উত্তর কলকাতার সেই ঐতিহ্যবাহী পুরনো বাড়িটিকেই আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান, যেটি তাঁর ঠাকুরদা তৈরি করেছিলেন। পরিবারের সকলে মিলে একসাথে থাকার সেই মাটির টান তিনি কোনো ফ্ল্যাটের বিলাসবহুল জীবনে খুঁজে পান না। শুধু বাড়িই নয়, নিজের জীবনের পুরনো ফোন, বাইক, সাইকেল কিংবা গাড়ি কোনো কিছুই সহজে ফেলে দিতে পারেন না তিনি, বরং পরম যত্নে সেগুলোকে ঘরের এক কোণে সাজিয়ে রাখেন।

এই পুরনো ঐতিহ্য এবং স্মৃতির প্রতি ভালোবাসার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে আদৃতের শৈশবে এবং তাঁর দাদুর সাথে গড়ে ওঠা গভীর সম্পর্কে। সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে করে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি জানান, ছোটবেলায় বাবার চেয়েও তিনি তাঁর ঠাকুরদা এবং পিসির অনেক বেশি কাছাকাছি ছিলেন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে দাদুই ছিলেন তাঁর প্রধান অভিভাবক। মাঝেমধ্যে দাদুর কাছে বকা খেলেও, সেই সম্পর্কের মধুরতা আজও তাঁর মনে অম্লান। দাদুর দেওয়া সেই পারিবারিক সংস্কার ও মূল্যবোধই আজও আদৃতকে বাস্তবের মাটিতে পা দিয়ে চলতে এবং মানুষের সাথে ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে থাকতে শিক্ষা দেয়।

আরও পড়ুনঃ ‘নায়িকার রোল দূরে থাক, কেউ বুড়ি, কাকিমা পিসিমার রোল দেবে কিনা সন্দেহ!’ ‘১০-১২ শুধু অ্যাঙ্করিং করে এত সম্পত্তি?’ ‘নিজেকে রেখা, হেমা মালিনী ভাববেন না!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

আজকের গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে দাঁড়িয়ে যেখানে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীই অভিনয়ের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে নিজস্ব ব্যবসা বা সাইড বিজনেস শুরু করছেন, আদৃত কিন্তু হাঁটছেন সম্পূর্ণ উল্টো পথে। এই মুহূর্তে কোনো নতুন ব্যবসা খোলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে বা পরিকল্পনা তাঁর নেই। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের অভিনয় এবং গানবাজনাতেই মনঃসংযোগ করতে চান। শুটিংয়ের ব্যস্ত শিডিউলের বাইরে যেটুকু অবসর সময় তিনি পান, তা কোনো পার্টি বা বাইরের কোলাহলে না কাটিয়ে নিজের অন্দরমহলে কাটাতে ভালোবাসেন। অভিনেতার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার হলো নিজের বাড়িতে পরিবারের সাথে ‘চিল’ করা বা রিল্যাক্স করা। নিজের চেনা ছন্দে, চেনা পরিবেশে শান্তিতে সময় কাটিয়ে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখাই এখন তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, পর্দার ঈশান আর বাস্তবের আদৃত রায়ের এই সরল জীবন দর্শন অনুরাগীদের আরও একবার তাঁর প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে।

Back to top button