‘হিন্দু ধর্মের অপমান!’- পাতে গ’রুর মাংস পড়তেই তুমুল বিতর্ক! স্বরলিপির জবাবে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া!

গোয়ার সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়ে নিজের নির্ভার মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিচ্ছিলেন স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়। কখনও রঙিন বিচ পোশাকে ঝলমলে আবহ তো কখনও প্রিয় খাবারের ছবি। ঠিক সেখানেই বিপত্তি। একটি সাধারণ বিফ স্টেক খাওয়ার ছবিকে কেন্দ্র করে শুরু হল নোংরা আক্রমণ। হঠাৎই অভিনেত্রীকে নিশানা করল একদল ট্রোলার। কেউ বললেন হিন্দুধর্মের অপমান আবার কেউ লাগামছাড়া ভাষায় দিলেন মৃত্যু কামনা। স্বরলিপি কিন্তু চুপ করে থাকেননি। বরং সমস্ত মন্তব্যের স্ক্রিনশট তুলে নিজের দেওয়ালে প্রকাশ করে দিলেন বাস্তব পরিস্থিতি।

ছবি পোস্ট করার পরই একের পর এক অশালীন মন্তব্য ধেয়ে আসে তাঁর দিকে। একজন তো লিখেই দিলেন যে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য আরও কষ্ট পেতে হবে এবং সামনে পেলে নাকি জুতোর বাড়ি দেয়া হবে। আরেকজন নিজেকে হিন্দু নারী বলে দাবি করে অভিযোগ করেন যে এই ছবি নাকি ধর্মকে অপমান করে। এমন আক্রমণের মুখেও স্বরলিপি মাথা নোয়াননি। বরং প্রশ্ন তুললেন খাবার নিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের বিরুদ্ধে। তিনি জানিয়ে দেন তিনি মানুষ এবং তাঁর পেটে যা সয় তিনি তাই খান এবং খাবারের কোনও জাত হতে পারে না।

এই ঘটনার ঠিক আগেই ময়দানে দুই প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ভিডিয়ো ছড়িয়ে যায় নেট দুনিয়ায়। সেই ঘটনায় দেশের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন স্বরলিপি। তাই নিজের পোস্টে তিনি লেখেন যে কোনও কারণে তিনি খারাপ সময়ের গন্ধ পাচ্ছেন। সমাজের বাড়তে থাকা এই অসহিষ্ণুতা তাঁকে ভাবাচ্ছে। খাবার পছন্দকে কেন্দ্র করে এমন বিদ্বেষ তাঁকে বিস্মিত করেছে বলেও জানালেন অভিনেত্রী।

গোয়ার ছুটিতে তিনি মূলত নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলেন। কখনও সমুদ্রের পাশে বসে একান্ত মুহূর্ত তো কখনও নতুন নতুন খাবারের স্বাদ। এমন প্রতিটি ছবি তিনি শেয়ার করছিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে। কিন্তু একটি সাধারণ স্টেকের ছবিকে কেন্দ্র করে এমন অশোভন আচরণ তাঁকে হতবাক করেছে। তবুও তিনি দৃঢ় স্বরে জানিয়ে দিয়েছেন যে ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ করানো যাবে না। খাবারের জন্য কাউকে আক্রমণ করা শুধু অসভ্যতা নয় বরং বিপজ্জনক প্রবণতা।

আরও পড়ুনঃ চিরসখার সেটেই লক্ষ্মীমণি দেবীর জন্মদিন উদযাপন! নিজের বিশেষ দিনে কেক কাটলেন অনুসূয়া মজুমদার! কি উপহার দিলো বউমা কমলিনী?

সবশেষে স্বরলিপির পালটা জবাবেই স্পষ্ট যে তিনি নিজের জীবন নিজের মতো করেই বাঁচতে চান। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর অন্যের নিয়ন্ত্রণ মানতে নারাজ তিনি। বিতর্ক তাঁর নতুন নয় কিন্তু প্রতিবারই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। এই ঘটনাতেও তাঁর একই দৃঢ়তা। তিনি মনে করেন খাবার মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ আর সেই জায়গায় কাউকে অপমান করা বা হুমকি দেওয়া কোনও সমাজেই মেনে নেয়া যায় না। তাঁর কথায় মানুষের মর্যাদা খাবারের ওপরে থাকা উচিত এবং সেই বার্তাই তিনি তুলে দিলেন নিজের প্রতিটি পোস্টে।

Back to top button