‘পালিয়ে গেলেও টেনে আনব…রাগে ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি আসা চলবে না!’ মা কখনও নাক গলাতেন না শ্বশুরবাড়ি কি হচ্ছে, বললেন স্বাগতা মুখার্জি! পর্দার দাপুটে খলনায়িকার, সুখী সংসারের চাবিকাঠি মায়ের শিক্ষা?

টলিউড (Tollywood) জগতের অন্যতম শক্তিশালী এবং বহুমুখী প্রতিভাশায়ী অভিনেত্রী হলেন স্বাগতা মুখার্জি (Swagata Mukherjee)। তিনি মূলত তার অসাধারণ বাচনভঙ্গি, ব্যক্তিত্ব এবং নেতিবাচক (Villain) চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গম্ভীর এবং স্পষ্ট, যা তাকে অন্যান্য অভিনেত্রীদের থেকে আলাদা করে তোলে। তিনি বহু বছর ধরে বাংলা মেগা সিরিয়ালের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া বড় পর্দায়ও তার অভিনীত বেশ কিছু কাজ রয়েছে।

পর্দার আড়ালে তার জীবনটি বেশ গোছানো এবং সাংস্কৃতিক আবহে মোড়া। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে তিনি খুব একটা আড়ালে রাখেন না, বরং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের ভালো-মন্দের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। স্বাগতা মুখার্জি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে আছেন তার স্বামী ঋষি মুখার্জি। তারা কেবল জীবনসঙ্গীই নন, বরং একে অপরের সেরা বন্ধু এবং সহকর্মী। তারা একসঙ্গে ‘অ্যাকাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস মিউজিক অ্যান্ড অ্যাক্টিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, যেখানে নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

স্বাগতা মুখার্জি ও ঋষি মুখার্জি বেশ কিছু প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। ঋষি মুখার্জিও একজন শক্তিশালী অভিনেতা, যিনি মূলত টেলিভিশন এবং মঞ্চে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। খুব অল্প বয়সেই মনের মানুষ ঋষির হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী স্বাগতা। সেই নিয়ে সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।

স্বাগতা মুখার্জির কথায় উঠে এসেছে তার মায়ের ছবি। তার মা সবসময়ই তাকে বাস্তববাদী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। বিবাহিত জীবনে ছোটখাটো মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই রাগের মাথায় হঠকারিতা করা যে উচিত নয়, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তার মায়ের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল সংসার করতে গেলে ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। কথায় কথায় রাগ করে ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসা বা সেখান থেকে পালানোর কোনো জায়গা নেই। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার মা বলত সংসার করতে যাচ্ছ মাথায় বরফ নিয়ে যাবে এবং কথায় কথায় ব্যাগ গুছিয়ে চলে আসবে না। আমার শ্বশুর মশাই বলেছিলেন এলো একবারে আসবে, রাগ করে চলে গেলে টানতে টানতে নিয়ে যাব।’

আরও পড়ুনঃ দেবের ২০ বছরের পার্টিতে আমন্ত্রণ না পাওয়ার ক্ষো’ভ সরিয়ে, সেরা সারপ্রাইজ দিতে চলেছে ‘দেশু’, ইঙ্গিত শুভশ্রীর! ভারতবর্ষের বিনোদন জগতে ইতিহাস গড়তে চলেছে দেব-শুভশ্রী জুটি?

আজকের দিনে যেখানে সামান্য কারণে বিচ্ছেদ বা ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে, সেখানে স্বাগতা মুখার্জির জীবনের এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবারের বড়দের সঠিক হস্তক্ষেপ এবং শাসন একটি সম্পর্কের ভিতকে আরও মজবুত করতে পারে। অভিনেত্রী বরাবরই তার স্বামীর সাপোর্টের কথা সাক্ষাৎকারে বারবার বলেছেন। অভিনেত্রীর স্বামীর এতটাই সাপোর্ট ছিল যার কারণে অভিনেত্রী এতদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।

Back to top button