‘মাত্র ৩ বছরের একটা শিশুর গায়ে হাত দিত…মদ খেলে হুশ থাকতো না!’- বাবাকে নিয়ে বিস্ফোরক ঋতাভরী!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। অনেক ছোটবেলা থেকেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। স্টার জলসার ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ হাত ধরে প্রথম অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী। তারপর থেকে একের পর এক সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এ কাজ করে চলেছেন। কর্মজীবনে তিনি সফল তো বটেই তবে ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঋতাভরীর সঙ্গে অনেক ছোটবেলা থেকেই ঘটেছে যা অভিনেত্রী আজও ভুলতে পারেনি।
আমরা প্রত্যেকে অভিনেত্রীর মা এবং দিদিকে চিনি। তবে অভিনেত্রীর বাবার সম্পর্কে অনেকেই আমরা জানিনা। ঋতাভরী কোনদিনও সমাজের মাধ্যমে তার বাবার কে বা তিনি কোথায় এই নিয়ে মুখ খোলেননি। ঋতাভরীর বাবা চলচ্চিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী। বাবার সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক ততটাও মধুর নয়।
গত দুবছর আগেই অভিনেত্রীর বাবা প্রয়াত হয়েছেন। বাবার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই তার দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নিজের মা এবং দিদির সঙ্গে তিনি ছোট থেকে রয়েছেন। মায়ের প্রতি বাবার অন্যায় অবিচারের সব কথা শুনেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে তাদের অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তাই নিজের বাবাকে পছন্দ করতেন না। তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না তার ছোট থেকেই।
অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেন ‘২৭ বছর তো উনি আমাদের কোনো দায়িত্বই নেন নি। শুধুমাত্র তার কথা শুনেছি, লোকটাকে চোখে পর্যন্ত কোনদিনও দেখিনি। আমার মা এবং দিদিকে কি কি সহ্য করতে হয়েছে সেই সব শুনেছি। তবে চার বছর বয়সের হালকা কিছু স্মৃতি রয়েছে।’ ঋতাভরীর ছোটবেলাতেই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যায়। ২০০০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। মাকে মাঝ পথে একা ফেলে চলে যাওয়ার পর থেকেই ঋতাভরী বাবাকে পছন্দ করতেন না।
আরও পড়ুনঃ “ভালো থেকো শৌর্য, ভালোবাসায় থেকো…” মিঠিঝোরা ধারাবহিককে অন্তিম বিদায় জানালো অভিনেতা সপ্তর্ষি রায়! অপূর্ণ থেকে গেল রাই-শৌর্য জুটির ভালোবাসা!
অভিনেত্রী আরও বলেন “আমি মনে করি যা হয় ভালোর জন্যই হয়। মা যেইভাবে আমাদেরকে শক্তি দিয়ে বড় করেছে, সেটা প্রশংসার যোগ্য। মা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের বড় করেছে, সেটা বারেবারে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি শুধু এটাই মনে করি, ওই সময় দাঁড়িয়ে মা যখন পেরেছে, মানুষের সাথে সবটা সম্ভব করে দেখিয়েছে, তাহলে আমি কেন পারব না? আসলে মায়ের এই স্ট্রাগলটা আমরা বহু বছর ধরে চোখের সামনে দেখেছি। কারো জীবনে বাবা না থাকা বিষয়টা কিন্তু খুব আনন্দের নয়। একটা চাপা কষ্ট, যন্ত্রণা কিন্তু আমাদের মধ্যে রয়েছে। মা প্রাণপণ চেষ্টা করে, কিন্তু বাবার জায়গাটা তো একটু অন্যরকম। আমি তো আমার জীবনের অনেকগুলো বছর এটা বুঝতেই পারিনি যে বাবার ভালোবাসাটা কেমন হয়।”

