‘একটা বুড়ি সাদা থান পরে আসছে, লাফালাফি করে চলে যাচ্ছে!’ ‘দুবার আমাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে, পরক্ষণেই বলেছে বুড়ি তোকে মরতে হবে না…’- টিআরপি তুলতে বৃদ্ধা অভিনেত্রীকে ব্যবহার করেছে প্রোডাকশন? অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপটে মিতা চ্যাটার্জী!

চলচ্চিত্র জগতের (Film industry) জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন মিতা চ্যাটার্জী (Mita Chatterjee)। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক সময় দাপিয়ে কাজ করেছেন অভিনেত্রী। বড় পর্দা ছোট পর্দা সব দেখাতে নিজের অভিনয়ের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। ৯২ বছর বয়সেও তার রূপ দেখে অবাক সকলে। বয়সের কারণে শরীর ভেঙে গিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখনো সুস্থ সবল রয়েছেন অভিনেত্রী। ডিডি বাংলা (DD Bangla) চ্যানেলের কালজয়ী মেগা ধারাবাহিক জন্মভূমিতে পিসিমার চরিত্রে অভিনেত্রীকে আজও মনে রেখে দিয়েছেন দর্শক। পিসিমা চরিত্রে অভিনয় করেই সকলের পিসিমা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তারপর একাধিক ধারাবাহিক ও বড় পর্দায় কাজ করেছেন।

শেষবার জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ত্রিনয়নী’তে তাকে নায়কের ঠাম্মির চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। আর বড় পর্দায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘কিয়া অ্যান্ড কিসমিস’ এ শেষবার কাজ করেছিলেন তিনি। বর্তমান সময়ে অভিনয় জগত থেকে দূরে থাকলেও বাড়িতে বেশিরভাগ সময়টা কাটান তিনি। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জনপ্রিয় ধারাবাহিক জন্মভূমি নিয়ে নস্টালজিয়ায় ভেসে গেলেন অভিনেত্রী।

জন্মভূমি ধারাবাহিক তার পিসিমা চরিত্র দর্শক সারা জীবন মনে রাখবেন। পিসিমা চরিত্রটি ধারাবাহিকে বিশেষ করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মিতা চ্যাটার্জী। ধারাবাহিকে তার চরিত্রটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে ধারাবাহিকের টিআরপি সেই চরিত্রের উপর অনেক সময় নির্ভর করে থাকতো। অভিনেত্রীকে যতবার ধারাবাহিক থেকে বিদায় দিতে চেয়েছেন ততবারই ধারাবাহিকের টিআরপি কমে গেছে। সেই নিয়ে মজার গল্প ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।

অভিনেত্রী মাত্র ৬ দিনের জন্য শুটিং করতে গিয়েছিলেন কিন্তু সেই শুটিং পরবর্তীকালে টানা সাড়ে সাত বছর চলে। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, ‘যদি এই দৃঢ়তা থাকে তাহলে ছয় দিনের কাজকে সাড়ে সাত বছর টানা যায়। ঈশ্বরের কত আশীর্বাদ, আমি নিজেও ভাবতে পারিনি। সবথেকে মজার বিষয় হলো অনেকদিন ধরেই আমার চরিত্রে দেখানো হচ্ছিল সাদা থান পড়ে আসছে বুড়ি, চিৎকার চেঁচামেচি করছে চলে যাচ্ছে। ওরা ভেবেছিল এরকম ভাবে কদিন আমার চরিত্রটি দেখিয়ে বের করে দেবে। তার জায়গায় অন্য চরিত্রদের জায়গা দেবে। কিন্তু তা আর হলো না।’

আরও পড়ুনঃ দুষ্কৃতীদের ভন্ডামিতে লক্ষাধিক টাকার লোকশান! ফাঁকা ব্যাংক একাউন্ট! বৃদ্ধা মা বাবাকে নিয়ে দুর্দশায় অসহায় শ্বেতা!

অভিনেত্রীর কথায়, ‘তখন ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যে দেখানো হলো আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে কয়দিন হাসপাতালের দৃশ্য চলত আমাকে ধারাবাহিকে দেখানো হতো না। সঙ্গে সঙ্গে টিআরপি পড়তে শুরু করলো। আমাকে দুবার ওরা হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। হাত-পা ব্যথা হয়ে গিয়েছিল, ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে ছোট জায়গার মধ্যে শুটিং হচ্ছে। কিন্তু যখনই হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে অমনি টিআরপি ঝুলে যাচ্ছে। তারপরে আমাকে বলা হলো বুড়ি চলো তোমাকে আর মরতে হবে না।’ এভাবেই মাত্র ৬ দিনের শুটিং সাড়ে সাত বছর ধরে করেছেন অভিনেত্রী। এখন তো বয়সের ভরে আর অভিনয় করতে পারেন না। আপনারা অভিনেত্রীকে টেলিভিশনের পর্দায় কতটা মিস করেন?

Back to top button