দুষ্কৃতীদের ভন্ডামিতে লক্ষাধিক টাকার লোকশান! ফাঁকা ব্যাংক একাউন্ট! বৃদ্ধা মা বাবাকে নিয়ে দুর্দশায় অসহায় শ্বেতা!

বর্তমান সময় টেকনোলজি যত উন্নত হচ্ছে স্ক্যামের (Scam) পরিমাণও তত দিন দিন বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে (Social Media) এরকম মাঝেমধ্যেই আমরা নানান ধরনের ভিডিও দেখতে পাই। যেগুলি আমাদের স্ক্যাম থেকে সতর্ক করে। তবে অনেক সময়ই বয়স্ক বৃদ্ধ মানুষ যারা টেকনোলজির সাথে খুব বেশি পরিচিত নয় তারা এই স্ক্যামের ফাঁদে পা দিয়ে দেয়। আবার অনেক সময় বড় বড় জ্ঞানী পরিচিত ব্যক্তিও এই স্ক্যামে পড়ে যান।
এবারে সেরকম একটি স্ক্যামের ফাঁদে পড়লেন টেলিভিশনের পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য। বাংলা টেলিভিশন জগতের খুবই জনপ্রিয় মুখ শ্বেতা। একাধিক ধারাবাহিকে নায়িকা চরিত্রে আমরা শ্বেতাকে দেখেছি। এবারে সেরকমই স্ক্যামের ফাঁদে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনেত্রীর সাথে যে এমন ঘটনা ঘটবে সেটা অভিনেত্রী কল্পনাও করতে পারেননি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে শুধুমাত্র অজ্ঞাত বা বয়স্ক মানুষেরাই নয় বড় বড় শিক্ষিত টেকনোলজি যারা মানুষও এই স্ক্যামের ফাঁদে পা দিতে পারেন।
এই স্ক্যামের ফাঁদে পড়ে অভিনেত্রীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে কয়েক লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। অভিনেত্রী নিজের সাথে ঘটা এই দুর্ঘটনার কথা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এবং সকলকে সতর্ক করেছেন এই স্ক্যাম সম্পর্কে একটি ভিডিওর মাধ্যমে। যতজনের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো যায় তার চেষ্টাই করেছেন অভিনেত্রী।
এই ঘটনাটি ঘটেছে শ্বেতার বাবা-মায়ের সঙ্গে। অভিনেত্রী তখন শুটিংয়ের কারণে বাড়ি ছিলেন না। ভিডিওর মাধ্যমে শ্বেতা বিস্তারিত ঘটনা জানিয়েছেন। শ্বেতা বলেন, ‘আগের শুক্রবার আমার মায়ের ফোনে একটি ফোন আসে অজানা নাম্বার থেকে। যথারীতি আমার মা ফোনটি রিসিভ করে। ফোন করে মাকে বলে আপনার ব্যাংকের কেওয়াইসি বাকি আছে কালকে ব্যাংকে এসে কেওয়াইসি করে যাবেন। তারপর সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দেওয়া হয়। এরপর আবার ওই নাম্বার থেকে দ্বিতীয় বার ফোন আসে। ফোন করে বলা হয় আমরা ক্ষমা চাইছি কালকে শনি আপনার কাছে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আপনাকে আমরা এখনই ফোনের মাধ্যমে এই কাজটা সম্পূর্ণ করে দিচ্ছি। আমার মা বাবা বয়স্ক, ভেবেছে বাড়িতে বসে যদি কাজ হয়ে যায় তাহলে তো ভালই হয়।’
‘এরপর আমার মায়ের থেকে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার চাওয়া হয়। মায়ের মনে ছিল না তাই বাবা অ্যাকাউন্ট নাম্বারটা বলে দেয়। এরপরে মাকে বলা হয় আপনাকে ভিডিও কল করছি। মা বলে আমি তো এত ভিডিও কল এসব বুঝিনা। তারপরে লোকটি বলে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, আমি যা বলছি আপনি তাই করুন। মাও বিশ্বাস করে, এরপরে লোকটি ভিডিও কল করে আমার মাকে বলে দেয় স্ক্রীন শেয়ার করতে যেভাবে যেভাবে আমার মাকে বলা হয় আমার মা সেভাবেই সেভাবে মত কাজ করে। আর স্ক্রীন শেয়ার করার ফলে আমার মায়ের ফোনে যাবতি ডিটেলস সে দেখতে পাচ্ছে। তারপর সেখান থেকে ওটিপি নিয়ে আমার মায়ের ব্যাংকের একাউন্ট পুরো ফাঁকা করে দেয়।’
আরও পড়ুনঃ ‘মা খোলাখুলি তাঁর পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে ডেট করতেন…বাবা কোন আপত্তি করেননি’ ‘চুমু খেতে দেখেছি, আমার সামনেই তাঁরা আদর করতেন’- মা বাবার সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক কবীর সুমন!
এখানেই শেষ নয়, অভিনেত্রী আরো জানান ‘তারপর আমার বাবার কাছে এটিএম কার্ডের ১৬ নম্বরের ডিজিট জানতে চায়। আমার বাবা সেটাও দেয়। এবারে ওই নাম্বারটা দেওয়ার পরে স্ক্যামার দেখে বাবার এটিএম কার্ড ল্যাপস করে গেছে। আর এটা আমার বাবা জানতো না। তখন ওই স্ক্যামার বাবার উপরে চিৎকার চেঁচামি করতে থাকে। তারপর সিভিভি নাম্বার চাওয়া হয়, বাবা একটু অবাক হয়। ওরকম ধমক খাওয়ার পর বুঝতে পারেনি কোন নাম্বার চাওয়া হচ্ছে। তখন লোকটি ওপাশ থেকে আরও জোড়ে ধমক দিয়ে বলে, ‘নাটক করছেন বুঝতে পারছেন না কোনটা। ব্যাংকের এত সময় নেই আপনাদের পেছনে সময় নষ্ট করবে।’ তখন বাবা বলে আমার বাড়ির সামনেই ব্যাংক আমি ব্যাংককে গিয়ে কথা বলছি। বলে আমার বাবা ফোনটা কেটে দেয়। যদি বাবা ওই সিভিভি নাম্বার দিত আমার বাবার অ্যাকাউন্ট থেকেও সব টাকা কেটে নিতো।’ ভিডিও শেষে অভিনেত্রী সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন। আরও জানান যে, ‘এই স্ক্যাম শুধুমাত্র আমার মায়ের সাথে নয় আরও অনেকের সাথে হয়েছে জানতে পেরেছি। তাই আমার মনে হলো আপনাদের জানানো দরকার সর্তক করা দরকার।’

