মাকে হারালেন অভিনেতা ভাস্বর চ্যাটার্জি! অন্ধকারে ভরে গেল তার গোটা পৃথিবী! কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতা!

বছরের মাঝপথে আবারও বিরাট বড় দুঃসংবাদ শোনা গেল। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Film Industry) জনপ্রিয় অভিনেতার পরিবারের নেমে এলো শোকের ছায়া। বছর শুরুর পর থেকেই একের পর এক যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে তাতে ভেঙে পড়েছেন সকলে। এবারে সকলের প্রিয় অভিনেতার জীবনের এমন দুর্ঘটনা কথা জানতে পেরে মন খারাপ হয়ে গেছে সকলের। কিন্তু কিভাবে ঘটল দুর্ঘটনা সেই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

টেলিভিশনের পর্দার একজন অত্যন্ত পরিচিত, গুণী, সুদর্শন অভিনেতা হলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভাস্বর। টেলিভিশন, বড় পর্দায় একাধিক কাজ করেছেন তিনি। নিজের অভিনয় জীবনে কয়েকশো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। পার্শ্ব চরিত্রে হলেও তার চরিত্রগুলি বরাবরই দাগ কেটে গিয়েছে দর্শকদের মনে। এখনো নিজের সেই কাজ সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারে অভিনেতার জীবনে ঘটে গেল বিরাট বড় দুর্ঘটনা, মাকে হারালেন অভিনেতা।

গতকাল মাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা। এভাবে হঠাৎ করে মাকে হারিয়ে ফেলবেন তিনি সেটা কল্পনাও করতে পারেননি। বিশ্বাস করতে পারছে না এখনো তার মা আর নেই এই পৃথিবীতে। বর্তমানে স্টার জলসার গীতা এলএলবি ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন ভাস্বর। মৃত্যুর সময় অভিনেতার মায়ের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তবে এখানে অভিনেতার নিজের মা নয়, কথা বলা হচ্ছে জনপ্রিয় কিংবদন্তি প্রয়াত অভিনেত্রী বাসন্তী দেবীর কথা। যাকে ভাস্বর নিজের মায়ের স্থানে বসিয়েছিলেন। বিগত ছয় মাস ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন বাসন্তী দেবী। যেতে পারেনি শুটিংয়ে। মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলেন প্রতি মুহূর্তে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় চিরকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। একটা সময় এই অভিনেত্রীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন ভাস্বর। অর্থকষ্ট ভুগেছিলেন শেষ বয়সে।

আরও পড়ুনঃ কমলিনীর মতোই কপাল পুড়ে’ছে তার মেয়ের! আঘাত পেতে পেতে ক্লান্ত মিঠি! তবুও শিরদাঁড়া বাঁকাতে নারাজ সে!

তাই অভিনেত্রীর প্রয়াণে যেন নিজের মাকে হারিয়েছেন তিনি। এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার অভিনেতা বলেন, ‘ধারাবাহিক ‘গীতা এলএলবি’তে বাসন্তীদি আমার মা হয়েছিলেন। মনে হচ্ছে যেন সত্যিই মাতৃবিয়োগ হল। কিছু দিন আগেই ধারাবাহিকে আমার ‘বাবা’র চরিত্রাভিনেতা নিলাদ্রি লাহিড়িকে হারালাম।’ একসাথে কাজ করার সূত্রে বাসন্তী-ভাস্বরের মধ্যে বাস্তবে মা-ছেলের আত্মিক টান গড়ে উঠেছিল। যত বার বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অসুস্থ হয়েছেন তত বার তিনি সমাজমাধ্যমে তাঁর চিকিৎসার খরচের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। সে প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেতার দাবি, “দিদি যে কী কষ্ট করেছেন, কতটা কষ্ট পেয়েছেন— সব দেখেছি। বিশেষ করে শেষ দিকে বড্ড বেশি যন্ত্রণা সহ্য করে গেলেন।” শেষ সময়ে ক্যানসার, কিডনির সমস্যা ভুগেছিলেন। শয্যাশায়ী ছিলেন দীর্ঘ ছয় মাস। শুটিংয়ে যেতে পারতেন না, চিকিৎসাও প্রায় বন্ধ ছিল। সেই সময় যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রযোজক স্নেহাশিস ও ভাস্বর।

Back to top button