তার ঝুলিতেই তিনটি পদ্মভূষণ! বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল খ্যাতি! আজ দুবেলা অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন সেই শিল্পী!

আমাদের দেশের কোনায় কোনায় বাউল সংগীত (Folk Song) এর বেশ প্রচলন রয়েছে। অসংখ্য বাউল সঙ্গীত শিল্পী ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের আশেপাশের। শুধুমাত্র বাংলাতেই নয়। বাংলার বাইরে ও বিভিন্ন রাজ্যে বাউল সংগীত জনপ্রিয় এলাকার মানুষদের মধ্যে। সেরকমই একজন পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত বাউল সংগীত শিল্পী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝখান থেকে।
একসময় নিজের সঙ্গীতের জাদুতে মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি সকলকে। তার গাওয়া গান সকলের মন ভালো করে রেখেছিল। নিজের অসাধারণ গানের মাধ্যমে তিন তিনবার জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন তিনি। আজ সেই শিল্পী বিছানায় শয্যাশায়ী। তার দুবেলা খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আমাদের দেশে পাণ্ডবানি বাউল সংগীত শিল্পীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সম্প্রতি নিজের ছোট ছেলেকে হারানোর পর থেকে একেবারে একা হয়ে পড়েছেন এই শিল্পী। সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত পেনশন পেতেও ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তাকে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মত কেউ নেই এখন তার পাশে। বিগত ৮ মাস ধরে সরকারের কাছে পেনশনের জন্য আবেদন করেও পাননি কোনরকম সাহায্য।
নিজের সংগীত শিল্পের জন্য তিনি পেয়েছেন পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, সংগীত একাডেমির মতো একাধিক পুরস্কার। আন্তর্জাতিক স্তরেও সম্মানিত হয়েছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। জাপানের একটি বিশেষ সম্মানীয় পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। কিন্তু একসময় এই পান্ডবানী বাউল গান গাওয়ার জন্যই তাকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল সমাজ থেকে। কারণ সাধারণত এই পান্ডবাণী বাউল সংগীত মহিলারা গান না।
আরও পড়ুনঃ লাহিড়ী বাড়ীর নোংরামি হাতেনাতে ধরলো আনন্দী! জ্বা’লিয়ে দিল প্রতিবাদের আগুন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
জনপ্রিয় সেই সংগীত শিল্পী হল তেজান বাই। ১৩ বছর বয়সেই প্রথম পান্ডবাণী গান গেয়ে সকলকে অবাক করে দেন তিনি। বাউল গানের প্রতি ভালোবাসা ছিল ছোট থেকেই। সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে কাটিয়েছেন দিনের পর দিন। আর প্রথম পারিশ্রম ছিল ১০ টাকা, সেই থেকে বছরে পর বছর ধরে মানুষের মন জয় করে আসেন তিনি এই বাউল সংগীত গেয়ে। কিন্তু আজ সেই জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী হারিয়ে যেতে চলেছে আমাদের মাঝখান থেকে। ছত্রিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি সাহায্যের আবেদন করেছেন।


